মহাকাশে নতুন ইতিহাস: ২০২৬ সালে চাঁদে স্থায়ী বসতি স্থাপনের কাজ শুরু করছে নাসা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ঝলক২৪
মানুষ কি এবার সত্যিই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চাঁদে বসবাস শুরু করবে? মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) জানিয়েছে, তাদের বহুল প্রতীক্ষিত 'আর্টেমিস' (Artemis) মিশনের মাধ্যমে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষের জন্য স্থায়ী বসতি বা 'লুনার গেটওয়ে' নির্মাণের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।
কী আছে এই মিশনে?
নাসার তথ্যমতে, এবারের মিশনে কেবল পুরুষ নয়, প্রথমবারের মতো কোনো নারী মহাকাশচারীও চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন। এই মিশনের মূল লক্ষ্য হলো চাঁদে একটি স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার জন্য একটি 'ট্রানজিট পয়েন্ট' হিসেবে কাজ করবে। চাঁদের মাটিতে জমাটবদ্ধ বরফ থেকে পানি এবং অক্সিজেন তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে ইতিমধ্যে সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে।
রোবট ও মানুষের যৌথ অভিযান
এই অভিযানে মানুষের পাশাপাশি কাজ করবে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট। বসতি নির্মাণের জন্য চাঁদের মাটি ব্যবহার করেই বিশেষ 'থ্রিডি প্রিন্টিং' (3D Printing) প্রযুক্তিতে ঘরবাড়ি তৈরি করা হবে। এর ফলে পৃথিবী থেকে ভারী নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।
কেন এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ?
পৃথিবীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতার কথা চিন্তা করে বিজ্ঞানীরা মহাকাশকে বিকল্প আবাসন হিসেবে দেখছেন। এছাড়াও চাঁদে প্রচুর পরিমাণে মূল্যবান খনিজ সম্পদ রয়েছে, যা আগামী দিনে পৃথিবীর জ্বালানি সংকট মেটাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্ব রাজনীতি ও মহাকাশ আধিপত্য
চাঁদে বসতি স্থাপনের এই দৌড়ে কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, চীন এবং রাশিয়াও নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সাল থেকে মহাকাশ বিজ্ঞানে এক নতুন যুগের সূচনা হবে, যেখানে দেশগুলোর মধ্যে মহাকাশ দখলের নয়, বরং সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ থাকবে।
সূত্র: [ঝলক২৪ টিম]
বিভাগ: তথ্যপ্রযুক্তি / আন্তর্জাতিক /
ঝলক২৪ কোনো সংবাদের দায়ভার নেয় না। পাঠকদের মতামত কমেন্টে জানান।