গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে যা জানাল হোয়াইট হাউস - ঝলক২৪ | এক ঝলকে সারাদিন | সর্বশেষ খবর ও ব্রেকিং নিউজ

ঝলক২৪ | এক ঝলকে সারাদিন | সর্বশেষ খবর ও ব্রেকিং নিউজ

ঝলক২৪ | সর্বশেষ সংবাদ ও ব্রেকিং নিউজ । বস্তুনিষ্ঠ খবরের নির্ভরযোগ্য নিউজ পোর্টাল। 🔵 Facebook 🔴 YouTube

| |
| |

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬

গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে যা জানাল হোয়াইট হাউস



৭ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ ডেস্ক
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণকে জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মধ্যে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে। ইউরোপীয় নেতারা এই অবস্থানের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডকে আর্কটিক অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি—বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকার। প্রেসিডেন্ট ও তাঁর দল এই গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন এবং অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ব্যবহার সর্বোচ্চ কমান্ডারের হাতে সবসময়ের বিকল্প।”

এই বিবৃতি আসার কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেনসহ ইউরোপের প্রধান দেশগুলোর নেতারা ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, “গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের। গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক ছাড়া অন্য কেউ তাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না।” তারা আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তাকে ন্যাটোর জন্য অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেছেন।
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হলেও এর জনসংখ্যা মাত্র ৫৭ হাজার। দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক স্পেস বেসসহ সামরিক উপস্থিতি রয়েছে দশকের পর দশক ধরে। ট্রাম্পের এই আগ্রহ ২০১৯ সাল থেকে চলে আসছে, যখন তিনি দ্বীপটি কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের পর এই বিষয়টি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
ইউরোপীয় নেতারা মনে করছেন, ন্যাটো মিত্রের ভূখণ্ডে এমন হুমকি জোটের ভিত্তিকে নড়বড়ে করতে পারে। ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ট্রোয়েলস লুন্ড পাউলসেন জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা বাড়াতে তারা ইতোমধ্যে বিলিয়ন বিলিয়ন ক্রোন বিনিয়োগ করেছেন। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেনও স্পষ্ট করেছেন যে দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয়।
আর্কটিক অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন সমুদ্রপথ ও খনিজসম্পদ উন্মোচিত হচ্ছে, যা গ্রিনল্যান্ডকে কৌশলগতভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটি প্রতিদ্বন্দ্বীদের ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এতে আন্তর্জাতিক আইন ও মিত্রতার প্রতি শ্রদ্ধার প্রশ্ন উঠছে।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্রয় বা ফ্রি অ্যাসোসিয়েশনের মতো শান্তিপূর্ণ বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে। কিন্তু সামরিক বিকল্পের কথা উল্লেখ করে তারা ডেনমার্কের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই উত্তেজনা ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং আটলান্টিক মহাসাগরের দুই তীরের সম্পর্ককে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন দেখছে, এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

গ্রিনল্যান্ড, হোয়াইট হাউস, ডোনাল্ড ট্রাম্প, ডেনমার্ক, সামরিক বিকল্প, আর্কটিক, ন্যাটো, জাতীয় নিরাপত্তা

সূত্র: ঝলক২৪ টিম

খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন

Pages