 |
| ছবি সংগৃহীত |
ইরান সরকার বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট বা ন্যাশনাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করতে নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিন, মেসেজিং অ্যাপসহ অন্যান্য ডিজিটাল সেবা প্রসারিত করছে, যা বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্নতার দিকে ইঙ্গিত করছে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর এই পদক্ষেপগুলো আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।
তেহরানে ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬-এ ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি (IRIB) একটি তালিকা প্রকাশ করে, যাতে দেশের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে উপলব্ধ সেবাগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় সার্চ ইঞ্জিন যেমন Zarebin, Gerdoo এবং Shaadbin, যা স্মার্ট সার্চ, মেটা-সার্চ এবং শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষ সুরক্ষিত সুবিধা প্রদান করে। এছাড়া মেসেজিং অ্যাপসমূহের মধ্যে Rubika (৫০ মিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারী, যা মেসেজিং, সোশ্যাল মিডিয়া ও ভিডিও স্ট্রিমিং একত্রিত), Eitaa (টেলিগ্রামের মতো ক্লাউড-ভিত্তিক, ৪০ মিলিয়ন+ ব্যবহারকারী) এবং Soroush Plus (ভিডিও কল ও নিউজ প্ল্যাটফর্ম, ৪২ মিলিয়ন+ ব্যবহারকারী) অন্তর্ভুক্ত। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে গত ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ব্যাপক বিক্ষোভের পর সরকার ৮ দিনের প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট আরোপ করে, যা ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬-এ ধাপে ধাপে শিথিল করা শুরু হয়েছে—প্রথমে এসএমএস সেবা পুনরুদ্ধার হয় এবং এখন দেশীয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম যেমন Eitaa ও Bale-এ অ্যাক্সেস ফিরে এসেছে। ডিজিটাল রাইটস এক্সপার্ট আমির রশিদি বলেন, "এটি ইরানের জাতীয় ইন্টারনেটের একটি কঙ্কাল সংস্করণ, যা চীনের চেয়েও বেশি সীমাবদ্ধ এবং সরকারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।" সরকারের পরিকল্পনা অনুসারে ভবিষ্যতে সাধারণ নাগরিকদের জন্য শুধুমাত্র এই অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক উন্মুক্ত থাকবে, যাতে ম্যাপ, নেভিগেশন, স্ট্রিমিং সার্ভিস (ইরানি নেটফ্লিক্সের মতো, শুধু সরকার-অনুমোদিত কনটেন্ট) সহ সবকিছু নিয়ন্ত্রিত। এই পরিবর্তন বিক্ষোভ দমনের পর স্থায়ী হয়ে উঠতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদিও সরকার দাবি করছে এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ইরান জাতীয় ইন্টারনেট, সার্চ ইঞ্জিন, মেসেজিং অ্যাপ, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, Zarebin Rubika Eitaa
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন