 |
| ছবি সংগৃহীত |
ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম Truth Social-এ একটি ভাইরাল পোস্ট করে নিজেকে ভেনেজুয়েলার 'Acting President' (ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট) বলে দাবি করেছেন। রোববার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) পোস্ট করা এই ছবিটি উইকিপিডিয়া-স্টাইলের এডিটেড ইমেজ, যেখানে ট্রাম্পের অফিসিয়াল প্রতিকৃতির নিচে লেখা রয়েছে “Acting President of Venezuela, Incumbent January 2026”। একইসঙ্গে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি ২০ জানুয়ারি ২০২৫-এ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
এই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে গেছে এবং বিশ্বজুড়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এটি আসলে একটি ডিজিটাল মিম বা সম্পাদিত ছবি—কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা সরকার এই দাবিকে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে এর পেছনে রয়েছে ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপট।
প্রেক্ষাপট কী?
গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায়। এতে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস-কে আটক করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসা হয়। মাদুরোকে নারকো-টেররিজম (মাদক-সন্ত্রাসবাদ) সংক্রান্ত অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযানের পর ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে 'run' (পরিচালনা) করবে—অন্তত অস্থায়ীভাবে—যতক্ষণ না একটি নিরাপদ ও যথাযথ ট্রানজিশন সম্ভব হয়। তিনি ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদ নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্ববাজারে বিক্রি করার পরিকল্পনার কথাও বলেন। পরে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন এবং মার্কিন হস্তক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
ট্রাম্পের এই পোস্টকে অনেকে স্যাটায়ার বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। কেউ কেউ এটিকে কলোনিয়ালিজমের নতুন রূপ বলে সমালোচনা করছেন। চীন, রাশিয়া, কলম্বিয়া ও স্পেনসহ অনেক দেশ মার্কিন অভিযানকে আগ্রাসী বলে নিন্দা করেছে।
বিশ্ব প্রতিক্রিয়া
ভেনেজুয়েলা: রদ্রিগেজ বলেন, এটি অপহরণ এবং মাদুরোই বৈধ প্রেসিডেন্ট।
আন্তর্জাতিক: অনেকে বলছেন, এটি আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
সোশ্যাল মিডিয়া: পোস্টটি লাখ লাখ ভিউ পেয়েছে, মিম ও সমালোচনায় ভরে গেছে।
ট্রাম্পের এই ধরনের পোস্ট তার স্টাইলের সঙ্গে মিলে যায়—কিন্তু এবার এটি ভেনেজুয়েলার তেল ও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। লাতিন আমেরিকায় মার্কিন প্রভাব আরও বাড়বে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন