ঢাকা, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের বড় জয় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। এই জয়কে কীভাবে দেখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান—এমন প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে।
গত ৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, জকসুর ২১টি পদের মধ্যে ১৬টিতেই জয়ী হয়েছে শিবির সমর্থিত প্যানেল। সহসভাপতি (ভিপি) পদে রিয়াজুল ইসলাম ৫ হাজার ৫৯৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে আব্দুল আলিম আরিফ ৫ হাজার ৪৭৫ ভোট এবং সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে মাসুদ রানা ৫ হাজার ২০ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। অন্যদিকে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল মাত্র ৫টি পদে জিতেছে।
এই ফলাফলকে ঘিরে ছাত্র রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অবস্থান কী হবে—এটি এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সূত্রমতে, তারেক রহমান ছাত্র রাজনীতিকে জাতীয় রাজনীতি থেকে আলাদা করে দেখেন। পূর্ববর্তী বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনগুলোতে শিবিরের জয়ের পরও তিনি বলেছিলেন, “ছাত্র রাজনীতির নিজস্ব জায়গা আছে, জাতীয় রাজনীতির নিজস্ব।” একইভাবে জকসু নির্বাচনের ফলাফলকে তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখতে পারেন এবং বিজয়ীদের অভিনন্দন জানাতে পারেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ছাত্রদলকে আরও সংগঠিত করার দিকে মনোযোগ দিতে পারে। সম্প্রতি ডাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান ছাত্রদল ও শিবিরসহ সব ছাত্র সংগঠনের মধ্যে ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে জকসুর ফলাফলকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখে ছাত্র রাজনীতিতে সহযোগিতার আহ্বান জানাতে পারেন।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ইতোমধ্যে শিবিরের জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ক্যাম্পাসে শিবির কর্মীরা শুকরানা নামাজ আদায় করে উদযাপন করেছেন।
জকসু নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দুই দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ফলাফল ছাত্র রাজনীতির নতুন মোড় নির্দেশ করছে কি না—সেটি সময়ই বলবে। তারেক রহমানের প্রতিক্রিয়া এই আলোচনাকে আরও গতি দেবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন