প্রথম দেশ হিসেবে স্টারলিংক অচল করে দিলো ইরান - ঝলক২৪ | এক ঝলকে সারাদিন | সর্বশেষ খবর ও ব্রেকিং নিউজ

ঝলক২৪ | এক ঝলকে সারাদিন | সর্বশেষ খবর ও ব্রেকিং নিউজ

ঝলক২৪ | সর্বশেষ সংবাদ ও ব্রেকিং নিউজ । বস্তুনিষ্ঠ খবরের নির্ভরযোগ্য নিউজ পোর্টাল। 🔵 Facebook 🔴 YouTube

| |
| |

Post Top Ad

Responsive Ads Here

মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রথম দেশ হিসেবে স্টারলিংক অচল করে দিলো ইরান



তেহরান: চলমান ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে ইরান বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা কার্যত অচল করে দিয়েছে। মার্কিন বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দেশটির সরকার সামরিক-গ্রেড জ্যামার (সিগন্যাল ব্যাহতকারী যন্ত্র) ব্যবহার করে স্টারলিংকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, যা বিক্ষোভকারীদের জন্য একমাত্র বিকল্প যোগাযোগের মাধ্যম ছিল।

কী ঘটেছে?
ইরানে ৮ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ, হাসপাতাল, ব্যাংক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রথমদিকে স্টারলিংক অক্ষত ছিল এবং হাজার হাজার অবৈধ টার্মিনাল (রিসিভার) দিয়ে বিক্ষোভকারীরা ছবি-ভিডিও শেয়ার করছিলেন। কিন্তু ১১ জানুয়ারি থেকে সরকার ‘কিল সুইচ’ নামে পরিচিত উন্নত জ্যামিং প্রযুক্তি চালু করে।
প্রথমে স্টারলিংকের আপলিংক-ডাউনলিংক ট্রাফিকের ৩০% ব্যাহত হয়।
কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এটি ৮০% ছাড়িয়ে যায়।
স্থানভেদে সংযোগের মান ভিন্ন—কোথাও কিছুটা চলে, কোথাও প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ।
ডিজিটাল রাইটস এক্সপার্ট আমির রাশিদি বলেন, এটি শুধু জিপিএস জ্যামিং নয়—ইউক্রেনে রাশিয়ার মতো উন্নত স্যাটেলাইট-টার্গেটেড জ্যামিং চালানো হচ্ছে। ইরান গত জুনের ইসরায়েল-ইরান ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকেই জিপিএস সিগন্যাল ব্যাহত করে আসছে, যা স্টারলিংক রিসিভারের জন্য অত্যাবশ্যক।

প্রেক্ষাপট
ইরানে স্টারলিংক অবৈধ—সরকার কখনো অনুমোদন দেয়নি।
অনুমান করা হয়, ৪০,০০০–৫০,০০০ টার্মিনাল চোরাচালান করে দেশে এসেছে।
বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ইলন মাস্ক স্টারলিংক ফ্রি করে দেন, যাতে বিক্ষোভকারীরা বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।
এটি ইরানের তৃতীয় বড় ইন্টারনেট শাটডাউন (২০১৯ ও ২০২২-এর পর)। কিন্তু এবার স্টারলিংককেও লক্ষ্য করে নেয়া হয়েছে—যা বিশ্বে প্রথম।

প্রভাব
এই জ্যামিংয়ের ফলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বিশ্বের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। সরকারের দমন-পীড়ন আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা। আন্তর্জাতিক সংস্থা ITU (ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন) আগেও ইরানকে জ্যামিং বন্ধ করতে বলেছে, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।
ইরানের এই পদক্ষেপ ডিজিটাল সেন্সরশিপের নতুন উচ্চতা দেখিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি প্রতিবাদ দমনে সরকারের ‘ডিক্টেটর প্লেবুক’—কিন্তু স্টারলিংকের মতো প্রযুক্তি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তবে এবার ইরান সফল হয়েছে। 

সূত্র: ঝলক২৪ টিম

খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন

Pages