অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে চীনের চূড়ান্ত সম্মতি অপেক্ষমাণ রয়েছে, যা পেলেই কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা।
প্রকল্পের সব নথি বেইজিংয়ে পাঠানো হয়েছে এবং চীনা বিশেষজ্ঞ দল এর যাচাই-বাছাই করছে।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানি সংকট, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদীভাঙন প্রতিরোধের লক্ষ্যে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বা তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে। ২০২৫ সাল থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে চীনের সঙ্গে আলোচনা তীব্রতর হয়েছে, যার প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের মার্চ মাসের চীন সফরে প্রকল্পে চীনা কোম্পানির অংশগ্রহণকে স্বাগত জানানো হয় এবং বিভিন্ন অবকাঠামো সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর থেকে বাংলাদেশ ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (BWDB) চীনের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি পাওয়ারচায়নার সঙ্গে এমওইউ এক্সটেনশন করে, যাতে ডিসেম্বরের মধ্যে কনসেপ্ট পেপার এবং ২০২৬ সালে ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নীলফামারী ও রংপুরে তিস্তা নদী পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বলেন, “চীনের বিশেষজ্ঞ দল বর্তমানে প্রকল্পের কারিগরি, আর্থিক ও বাস্তবায়ন কাঠামো যাচাই-বাছাই করছে। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত সম্মতি মিললেই দেশের সর্ববৃহৎ এই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, সেচব্যবস্থা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশগত ভারসাম্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।” প্রকল্পটি ১০ বছর মেয়াদী দুটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে, মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা, যার প্রথম ধাপে ৯ হাজার ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় হবে এবং এর মধ্যে চীন থেকে প্রায় ৫৫ কোটি ডলার (প্রায় ৬৭ বিলিয়ন টাকা) ঋণ চাওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে কাজ শুরু করে ২০২৯ সালের মধ্যে প্রথম ধাপ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে, যা বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ, সেচ উন্নয়ন এবং অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকেও প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা, চীন সম্মতি, রিজওয়ানা হাসান, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, উত্তরাঞ্চল উন্নয়ন, চীনা ঋণ, তিস্তা নদী