১৪ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান, জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে দাঁড়ানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ নিশ্চিত করা। এই আহ্বান দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে দেওয়া হয়েছে।
জামায়াত আমির তার ফেসবুক পোস্টে এবং পরবর্তী ব্রিফিংয়ে এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “আজ আমরা ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। গণভোট মানে জনগণের সরাসরি মতামত, জনগণ নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র। এই গণভোটের মাধ্যমে আমরা অন্যায়, জুলুম ও স্বৈরাচারের বিপরীতে ন্যায়, ইনসাফ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছি।” তিনি আরও যোগ করেন, জামায়াত শুরু থেকেই সংস্কারের পক্ষে এবং দেশবাসীও পরিবর্তন চায়।
ঘটনার কালানুক্রম অনুসারে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর জুলাই জাতীয় সনদ গঠিত হয়, যাতে ২৪টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করে। জামায়াতও স্বাক্ষর করে। পরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সংস্কার প্রস্তাবগুলো গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদনের সুপারিশ করে। অন্তর্বর্তী সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও নির্বাচন একসঙ্গে করার সিদ্ধান্ত নেয়। জামায়াত আমির ১০ জানুয়ারি ফেসবুক পোস্টে এবং ১২ জানুয়ারি ইইউ পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এই আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
জামায়াত আমিরের এই আহ্বানে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে দায়িত্ববোধ নিয়ে ভোটে অংশগ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আপনার একটি ভোটই হতে পারে সত্য ও ন্যায়ের বিজয়ের প্রধান হাতিয়ার।” এছাড়া তিনি জানান, দলীয় ভোট যাকে খুশি দেওয়া যাবে, কিন্তু দেশের কল্যাণে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, ১৯৭২ সালের সংবিধানের পর বাংলাদেশে গণভোটের ঘটনা ঘটেছে, যেমন ১৯৭৭ সালে। বর্তমানে জুলাই অভ্যুত্থানের পর সংস্কারের দাবি উঠেছে, যা এই গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে পারে। জামায়াতের এই অবস্থান সংস্কার প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গণভোট, জামায়াতে ইসলামী, ডা. শফিকুর রহমান, হ্যাঁ ভোট, জুলাই জাতীয় সনদ, সংস্কার, নির্বাচন ২০২৬, দেশের স্বার্থ, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন