আন্তর্জাতিক আদালতে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের: নাইকোকে ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ
ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সালিশি ট্রাইব্যুনাল ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিএসআইডি) সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৫ সালের বিস্ফোরণ মামলায় বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিয়েছে। কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেসকে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ রায় সরকারের কাছে কয়েকদিন আগে পৌঁছেছে।
২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে নাইকো রিসোর্সেসের খনন কার্যক্রমের সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে যা পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন করে। পরবর্তী তদন্তে নাইকোর অপারেশনাল অবহেলা ও আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম শিল্পের মানদণ্ড লঙ্ঘনের কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রমাণিত হয়। পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি) প্রথমে দেশীয় আদালতে মামলা করে জয়লাভ করে এবং হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টেও বাংলাদেশের পক্ষে রায় আসে। নাইকো ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় ২০১০ সালে আইসিএসআইডিতে মামলা করে। বাংলাদেশ প্রথমে বাপেক্সের জন্য ১১৮ মিলিয়ন ডলার এবং সরকারের জন্য অতিরিক্ত ৮৯৬ মিলিয়ন ডলার দাবি করে। আইসিএসআইডির ট্রাইব্যুনাল নাইকোর দোষ প্রমাণিত করে ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয়। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রেজানুর রহমান বলেন, “এ রায় দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের ফল এবং বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক সাফল্য।” এ বিজয় পরিবেশগত দায়বদ্ধতা ও বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে সতর্কতার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইসিএসআইডি রায়, নাইকো ক্ষতিপূরণ, টেংরাটিলা বিস্ফোরণ, পেট্রোবাংলা জয়, আন্তর্জাতিক সালিশি
আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের জয়: নাইকোকে ৪২ মিলিয়ন ডলার (৫১৬ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ। ২০০৫ টেংরাটিলা বিস্ফোরণ মামলায় ঐতিহাসিক বিজয়।