আন্তর্জাতিক, নিউজ ডেস্ক
নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী পাকিস্তানি শিক্ষা অধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাই ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নারী ও কিশোরীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই আন্দোলন দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা ও নারী-কিশোরীদের স্বায়ত্তশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। মালালা জোর দিয়ে বলেন, ইরানি নারী ও মেয়েরা মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার দাবি করছে, যা বহিরাগত শক্তি বা দমনমূলক শাসনের দ্বারা নয়, বরং ইরানি জনগণের নেতৃত্বে গড়ে উঠতে হবে।
মালালা তার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ১২ জানুয়ারি একটি বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “ইরানের বিক্ষোভগুলোকে শিক্ষাসহ জনজীবনের সব ক্ষেত্রে নারী ও মেয়েদের ওপর দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। ইরানি মেয়েরা, বিশ্বের সব মেয়ের মতো, মর্যাদাপূর্ণ জীবন চায়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের মানুষ দশকের পর দশক ধরে এই দমনমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সতর্ক করে আসছেন, যা বিচ্ছিন্নতা, নজরদারি ও শাস্তির মাধ্যমে চালিত লিঙ্গভিত্তিক নিয়ন্ত্রণের অংশ।
বিক্ষোভগুলো ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হয়েছে, যা প্রথমে অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি ও ইরানি রিয়ালের মূল্যহ্রাস নিয়ে ছিল। কিন্তু দ্রুতই এটি সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়, যাতে নারী অধিকার, রাজনৈতিক সংস্কার ও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুসারে, বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত শতাধিক নিহত হয়েছে এবং হাজার হাজার গ্রেপ্তার হয়েছে। ইরান সরকার ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
মালালা তার বিবৃতিতে বলেন, “ইরানের মানুষ দশকের পর দশক ধরে এই দমনের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন, ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়ে। তাদের কণ্ঠস্বর দীর্ঘদিন চুপ করিয়ে রাখা হয়েছে।” তিনি জোর দেন যে, ইরানের ভবিষ্যৎ ইরানি জনগণের দ্বারা পরিচালিত হতে হবে এবং তাতে নারী ও মেয়েদের নেতৃত্ব থাকতে হবে। তিনি শেষ করেন, “আমি ইরানের জনগণ ও মেয়েদের স্বাধীনতা ও মর্যাদার দাবির পাশে দাঁড়াই। তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারী।”
এই সমর্থন মালালার নারী অধিকার ও শিক্ষার জন্য দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি আগেও ইরানের নারী অধিকারকর্মী নার্গেস মোহাম্মাদির গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন। বর্তমান আন্দোলন ২০২২ সালের মাহসা আমিনি আন্দোলনের সঙ্গে মিল রাখে, যেখানে নারীরা হিজাব আইনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরান সরকারের সহিংসতা ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের নিন্দা করেছে।
ইরান, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, নারী অধিকার, মালালা ইউসুফজাই, নোবেলজয়ী, মাহসা আমিনি, মানবাধিকার, ইরানি নারী, স্বাধীনতা দাবি, অর্থনৈতিক সংকট
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন