কিডনি আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ ফিল্টার অঙ্গ, যা রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল বের করে দেয়। প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনির সমস্যা (দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ বা CKD) প্রায়শই লক্ষণহীন থাকে, কারণ শরীর প্রথমে মানিয়ে নেয়। কিন্তু ক্ষতি বাড়লে শরীর বিভিন্ন সতর্কতামূলক সিগন্যাল দেয়, যা উপেক্ষা করলে পরবর্তীতে কিডনি ফেলিওরের ঝুঁকি বাড়ে।
কিডনি খারাপ হলে সাধারণত যেসব লক্ষণ দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে অবিরাম ক্লান্তি ও দুর্বলতা, যা অ্যানিমিয়া বা টক্সিন জমার কারণে হয়। প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা বা বুদবুদ দেখা যায়, যা প্রোটিন লিকেজের (প্রোটিনুরিয়া) ইঙ্গিত। পা, গোড়ালি, হাত বা চোখের নিচে ফোলাভাব (ইডিমা) হয় কারণ কিডনি অতিরিক্ত তরল ও সোডিয়াম বের করতে পারে না। ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া বা রাতে বারবার ঘুম ভাঙা, প্রস্রাবের রঙ লালচে বা অন্ধকার হওয়া, ত্বক শুষ্ক ও চুলকানি, ক্ষুধামন্দা, বমির ভাব, মাথাব্যথা, পেশিতে খিঁচুনি বা ক্র্যাম্প, ঘুমের সমস্যা ও মানসিক অস্পষ্টতা—এসবও কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার সাধারণ সংকেত। গুরুতর অবস্থায় শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ বা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না আসাও দেখা যায়।
নিচের ছবিতে কিডনির অবস্থা দেখুন
এই লক্ষণগুলো অন্যান্য রোগের কারণেও হতে পারে, তাই নিজে নিজে ধরে নেবেন না। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, পারিবারিক ইতিহাস বা ৬০ বছরের বেশি বয়স থাকলে বছরে অন্তত একবার কিডনি ফাংশন টেস্ট (সিরাম ক্রিয়েটিনিন, eGFR, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন) করান। সময়মতো ধরা পড়লে ওষুধ, ডায়েট ও লাইফস্টাইল পরিবর্তন দিয়ে কিডনির ক্ষতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
কিডনি সমস্যা, লক্ষণ, ফোলাভাব, প্রস্রাবে ফেনা, ক্লান্তি, CKD
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন