সিরাজগঞ্জের বিস্তীর্ণ মাঠ এখন সরিষা ফুলের হলুদে ঢেকে গেছে, যেখান থেকে মৌচাষিরা অর্গানিক মধু আহরণ করে চলেছেন। চলতি রবি মৌসুমে সরিষা চাষ ও মধু উৎপাদন মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা কৃষক ও মৌচাষিদের জন্য বড় অর্থনৈতিক সুযোগ।
সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৪৬ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, সরিষা ফুল থেকে মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০৪ টন। এই মধু প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা মাঠ থেকে সরাসরি বড় কোম্পানি কিনে নিচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মোহাম্মদ রেজাউল হক বলেন, “মৌমাছি মধু সংগ্রহের সময় ফুলে ফুলে উড়ে পরাগায়ন ঘটায়। ফলে শস্যের উৎপাদন ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। মধু চাষি ও কৃষক উভয় লাভবান হয়।” এই পরাগায়নের কারণে সরিষার ফলন বাড়ছে এবং মৌচাষিরা প্রায় ৫০০-এর বেশি খামারি মৌ-বক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহ করছেন। মৌচাষিরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা সম্ভব হবে। এই মধু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হচ্ছে এবং সরিষা বীজ থেকে ভোজ্য তেল উৎপাদনও অর্থনীতিতে যোগ করছে। শীতের কুয়াশা ও রোদে হলুদ ফুলের এই দৃশ্য পর্যটকদেরও আকর্ষণ করছে। চলনবিল অঞ্চলের এই বাণিজ্যিক সাফল্য কৃষি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে এবং আগামী মৌসুমে আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ, সরিষা ফুলের মধু, কোটি টাকার বাজার, মধু আহরণ, কৃষি বাণিজ্য, পরাগায়ন
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন