০৬ জানুয়ারি, ২০২৬, নিউজ ডেস্ক
শ্রমিক প্রেরণে রেকর্ড: ২০২৫ সালে সৌদি আরবে গেছেন সাড়ে ১০ লাখ বাংলাদেশি
২০২৫ সালে সৌদি আরবে রেকর্ড সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক গেছেন। বছরে প্রেরিত শ্রমিকের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১০ লাখ অতিক্রম করে সাড়ে ১০ লাখে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে শ্রমিক প্রেরণে গত বছর অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, ২০২৫ সালে সৌদি আরবে মোট ১০ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মসংস্থানের জন্য গমন করেছেন। এটিই একটি বছরে কোনো একক গন্তব্য দেশে শ্রমিক প্রেরণের সর্বোচ্চ রেকর্ড। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার।
বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন মুখ্য কর্মকর্তা বলেন, "সৌদি ভিশনের অধীনে দেশটির বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টে ব্যাপক কর্মী নিয়োগের কারণে আমাদের শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে। আমরা সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দক্ষতা অনুযায়ী শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করেছি, যার ফলে এই রেকর্ড সংখ্যক নিয়োগ সম্ভব হয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা, হাসপাতাল সেবা ও হোটেল ম্যানেজমেন্ট খাতে সর্বাধিক সংখ্যক শ্রমিক প্রেরণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স ছিল ৬৮৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ। ২০২৪ সালে এই পরিমাণ ছিল ৫৭২ কোটি ডলার। অর্থাৎ, শ্রমিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে রেমিট্যান্স প্রবাহেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'রিফ্লেক্সিস এনালিটিক্স'-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সাইফুল ইসলাম বলেছেন, "এই প্রবণতা খুবই ইতিবাচক। তবে এখন আমাদের মনোযোগ দিতে হবে প্রেরিত শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও তাদের প্রেরিত রেমিট্যান্সকে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার দিকে। অত্যধিক একটি দেশের উপর নির্ভরশীলতাও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।"
সৌদি আরবে শ্রম বাজার উন্মুক্ত হওয়ার পেছনে ২০১৯ সালে স্বাক্ষরিত "কর্মসংস্থান ও শ্রমিক পরিচালনা চুক্তি" একটি বড় ভূমিকা রেখেছে। এরপর থেকে দুদেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার হয়। বাংলাদেশ থেকে নিয়োগের পরিমাণ ২০২১-২০২২ সালের করোনা পরবর্তী পুনরুদ্ধার phase অতিক্রম করে ২০২৩ সাল থেকে দ্রুত গতি পায় এবং ২০২৫ সালে তা শীর্ষে পৌঁছায়।
ঢাকা থেকে রিয়াদগামী বেশ কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও মিগ্রেশন খরচ আগের তুলনায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় তারা সুবিধা পেয়েছেন। তবে কিছু শ্রমিক অভিযোগ করেন, পূর্ব-প্রশিক্ষণের মান এবং কর্মস্থলে গিয়ে চুক্তিভিত্তিক সুবিধা না পাওয়ার মতো সমস্যা এখনও রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রেকর্ড অর্জন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় মাইলফলক। সরকারের now challenge এখন এই শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তাদের দক্ষতা উন্নত করে উচ্চ আয়ের চাকরির সুযোগ তৈরি করা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহকে টেকসই উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা। সৌদি আরব ছাড়াও মালয়েশিয়া, জাপান, রোমানিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ায় শ্রমবাজার সম্প্রসারণের উপরও সমান জোর দিতে বলছেন তারা।
সৌদি আরব, বাংলাদেশ, শ্রমিক প্রেরণ, রেমিট্যান্স, রেকর্ড, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ, সৌদি ভিশন ২০৩০, দক্ষতা উন্নয়ন
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন