ঢাকা: ইরানে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে এবং “খুব কঠিনভাবে আঘাত করবে”। ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “ইরান এখন বড় সমস্যায় পড়েছে... আমেরিকা সাহায্যের জন্য প্রস্তুত!”।
এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা করে, তাহলে ইসরায়েল (যাকে তারা ‘দখলকৃত ভূখণ্ড’ বলে) এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, জাহাজ ও বাহিনীকে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, “ইরান শুধু প্রতিক্রিয়া দেখাবে না, যেকোনো হুমকির লক্ষণ দেখলেই পদক্ষেপ নেবে”।
বর্তমান পরিস্থিতি
ইরানে ডিসেম্বর ২৮ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি ও রিয়ালের মূল্যহ্রাসের কারণে বিক্ষোভ শুরু হলেও এখন এটি সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে, যাতে বিক্ষোভের তথ্য ছড়াতে না পারে।
মানবাধিকার সংস্থা অনুসারে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৫১ জন (৯ শিশুসহ) নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ বলছে, বিক্ষোভে ১০০+ নিরাপত্তা কর্মী নিহত।
ট্রাম্পের হুমকির পর মার্কিন সামরিক বাহিনীকে আরও প্রস্তুতির সময় চাইছে বলে খবর।
পটভূমি
গত বছর (জুন ২০২৫) ইসরায়েল-ইরান ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা (ফোর্ডো, নাতানজ, ইসফাহান) ধ্বংস করে। ইরান প্রতিশোধে কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এরপর যুদ্ধবিরতি হলেও উত্তেজনা কমেনি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই ট্রাম্পকে “ইরানিদের রক্তে হাত রাঙানো” বলে অভিযোগ করেছেন এবং বিক্ষোভকারীদের “দাঙ্গাবাজ ও সন্ত্রাসী” বলে চিহ্নিত করে কঠোর দমনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিশ্লেষণ
এখনো কোনো সরাসরি হামলা হয়নি, কিন্তু দুই পক্ষের হুমকি-পাল্টা হুমকি পরিস্থিতিকে পাল্টা হামলার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। ট্রাম্পের উপদেষ্টারা সামরিক অভিযান, সাইবার হামলা, নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন। ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষামূলক বা প্রাক-প্রতিরোধী হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।
এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বাজার, বিশ্ব অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভুল গণনা বা দুর্ঘটনা যেকোনো সময় বড় যুদ্ধের সূচনা করতে পারে।
ইরানের জনগণের বিক্ষোভ এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে আন্তর্জাতিক শক্তির হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন