ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে হুমকির মুখে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প, ইউরোপে প্রতিযোগিতা তীব্র হবে
ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে সম্প্রতি চূড়ান্ত হওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। চুক্তিটি কার্যকর হলে ভারতীয় পোশাক ইইউ বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশ পাবে, যা বাংলাদেশের বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাকে ক্ষুণ্ণ করবে।
ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্টার উপস্থিতিতে এ চুক্তি ঘোষণা করা হয়। চুক্তিটি ২০২৭ সালে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে ভারতীয় পোশাকের ওপর বিদ্যমান ৯-১২ শতাংশ শুল্ক শূন্য করে দেবে। বর্তমানে বাংলাদেশ এলডিসি সুবিধায় ইইউতে শুল্কমুক্ত রপ্তানি করে, যা ২০২৬ সালের নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর তিন বছরের ট্রানজিশন শেষে শেষ হবে। এরপর বাংলাদেশকে জিএসপি প্লাস বা দ্বিপাক্ষিক এফটিএ না পেলে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। অন্যদিকে ভারতের সম্পূর্ণ ইন্টিগ্রেটেড সাপ্লাই চেইন, কাঁচামালের স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও বড় উৎপাদন ক্ষমতা থাকায় প্রতিযোগিতা তীব্র হবে। সিপিডির সম্মানিত ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “পোশাক খাতে প্রভাব উল্লেখযোগ্য হবে, ভারতের শুল্কমুক্ত প্রবেশ বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা কমিয়ে দেবে।” ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইইউতে বাংলাদেশের আরএমজি রপ্তানি ছিল ১৯.৭১ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির ৫০ শতাংশের বেশি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ইইউর সঙ্গে দ্রুত এফটিএ আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, “এটি ওয়েক-আপ কল, দ্রুত জিএসপি প্লাস বা এফটিএ নিশ্চিত করতে হবে।” এ চুক্তি পাকিস্তানের পোশাক খাতকেও প্রভাবিত করবে, তবে বাংলাদেশের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে।
ভারত ইইউ এফটিএ, বাংলাদেশ আরএমজি হুমকি, শুল্কমুক্ত প্রতিযোগিতা, ইউরোপ বাজার, পোশাক রপ্তানি
ভারত-ইইউ এফটিএ চুক্তিতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প হুমকির মুখে, ইউরোপে শুল্কমুক্ত প্রবেশে প্রতিযোগিতা তীব্র হবে: বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা।