বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের ৯ সদস্যের জানাজা-দাফন সম্পন্ন
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের ৯ সদস্যের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে পৌর সরকারি কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে সমাহিত করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গুনাই ব্রিজ এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে বরের বাড়ি থেকে ফেরার পথে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোট ১৪ জন নিহত হন। এর মধ্যে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আবদুর রাজ্জাক সরদারের পরিবারের ৯ সদস্য রয়েছেন। নিহতরা হলেন আবদুর রাজ্জাক, তার ছেলে নববিবাহিত বর আহাদুর রহমান সাব্বির, ছেলে আব্দুল্লাহ সানি, মেয়ে উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, রাজ্জাকের বড় ভাই, ভাবি, ভাগনে-ভাগনিসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় যেখানে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। জানাজার আগে ৯টি খাটিয়া পাশাপাশি রাখা হয়। জানাজা শেষে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে মোংলা সরকারি কবরস্থানে পরিবারের সম্মতিতে পাশাপাশি ৯টি কবর খুঁড়ে দাফন সম্পন্ন করা হয়। কবরস্থানের খাদেম মো. মুজিবুর ফকির বলেন, ‘পরিবারের সম্মতিতে আমরা একই স্থানে পাশাপাশি ৯টি কবর প্রস্তুত করেছি। ১৭ বছর ধরে কবরস্থানের দায়িত্ব পালন করছি। কখনো একসাথে একই পরিবারের এত সদস্যের কবর খুঁড়িনি। ঘটনাটা খুবই হৃদয়বিদারক।’ এদিকে একই দুর্ঘটনায় নিহত কনে মার্জিয়া আক্তার মিতু, তার বোন লামিয়া ও দাদি রাশিদা বেগমের দাফন খুলনার কয়রা উপজেলায় এবং মাইক্রোবাস চালকের দাফন রামপালে সম্পন্ন হয়েছে। দুর্ঘটনায় ৪ শিশুসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা, বাগেরহাট রামপাল, একই পরিবার ৯ জন, জানাজা দাফন, মোংলা কবরস্থান, বর-কনে নিহত
বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৯ সদস্যের জানাজা শেষে পাশাপাশি দাফন সম্পন্ন; হাজারো মানুষের শোক।