আত্মশুদ্ধি ও হেদায়াতের পাথেয়: অন্তরের পরিশুদ্ধি দিয়ে আল্লাহর পথে অটল থাকুন
ইসলামী জীবনধারায় আত্মশুদ্ধি ও হেদায়াত অর্জন মুমিনের সবচেয়ে মূল্যবান যাত্রা। অন্তরকে গুনাহ, কুপ্রবৃত্তি ও নফসের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের এই পথে কুরআন-হাদীসের নির্দেশনা ও উলামায়ে কেরামের বাণী অমূল্য পাথেয় হিসেবে কাজ করে।
আত্মশুদ্ধি বা তাযকিয়া মানে অন্তরকে সকল প্রকার চারিত্রিক ও আধ্যাত্মিক রোগ থেকে পবিত্র করা। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “যিনি তাযকিয়া করেন তিনি সফলকাম হন” (সূরা আশ-শামস: ৯)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তরের সংশোধনকে সবচেয়ে বড় আমল বলে উল্লেখ করেছেন। হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ. বলেন, “তাসাওউফের সারনির্যাস হলো নেক কাজে অলসতার মুকাবিলা করা এবং গুনাহ থেকে বাঁচতে ঢিলেমি না করা। এতেই আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক সৃষ্টি, উন্নতি ও স্থায়িত্ব লাভ করে।” হেদায়াতের পথে প্রধান শত্রু নফস, শয়তান ও অলসতা। শয়তান ওয়াসওয়াসা দেয়, নফস তা কাজে পরিণত করে। তাই তাওবা, ইস্তিগফার, যিকির, কুরআন তিলাওয়াত, সালাতুল্লাহ ও সৎসঙ্গ অর্জন করে অন্তরকে আলোকিত করতে হবে। রমজানের মতো মাসে সিয়াম, তাকওয়া ও তাওবার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি সহজ হয়, যা সারা বছরের পাথেয় হয়ে থাকে। আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, “ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব, সাব্বিত কালবী আলা দীনিক” – হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর অটল রাখো। সালাফে সালেহীনের জীবনী অধ্যয়ন, সৎ লোকের সঙ্গ ও নিয়মিত মুরাকাবা এ পথকে সুগম করে। এই পথে অটল থাকলে আল্লাহ হেদায়াত দান করেন এবং জান্নাতের পথ সহজ হয়।
আত্মশুদ্ধি, হেদায়াত, তাযকিয়া, তাসাওউফ, অন্তরের পরিশুদ্ধি
আত্মশুদ্ধি ও হেদায়াতের পাথেয়: তাযকিয়া দিয়ে অন্তর পবিত্র করুন, নফস-শয়তানের মুকাবিলায় অটল থাকুন।
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন