চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫-২০ জন
চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে গ্রাফিতিতে ‘ছাত্র’ শব্দ মুছে ‘গুপ্ত’ লেখাকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দুই দফায় ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এই সংঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার জেরে কলেজের ক্লাস ও পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য স্থানে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে জুলাই আন্দোলনের সময় আঁকা একটি গ্রাফিতিতে মূলত লেখা ছিল ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’। সোমবার রাতে ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে সেখানে ‘গুপ্ত’ লিখে দেন। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে দুই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। বিকেলে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল নিউমার্কেট মোড় থেকে কলেজের দিকে এলে আবার ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপক্ষের হাতে কিরিচ ও লাঠি দেখা গেছে। সিটি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল সিদ্দিক রনি বলেন, “দেয়ালে ‘গুপ্ত’ লেখা কেন্দ্র করে সকালে ছাত্রশিবিরের সভাপতি ক্যাম্পাসে অশালীন মন্তব্য করেন।” পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে ঘটনায় একতরফা দোষারোপ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল বিক্ষোভ করেছে।
ছাত্রদল ছাত্রশিবির সংঘর্ষ চট্টগ্রাম সিটি কলেজ গ্রাফিতি গুপ্ত লেখা
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে গ্রাফিতি বিতর্কে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত ১৫-২০, ক্লাস বাতিল।