রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ - ঝলক২৪ | এক ঝলকে সারাদিন | সর্বশেষ খবর ও ব্রেকিং নিউজ

ঝলক২৪ | এক ঝলকে সারাদিন | সর্বশেষ খবর ও ব্রেকিং নিউজ

ঝলক২৪ | সর্বশেষ সংবাদ ও ব্রেকিং নিউজ । বস্তুনিষ্ঠ খবরের নির্ভরযোগ্য নিউজ পোর্টাল। 🔵 Facebook 🔴 YouTube

| |
| |

Post Top Ad

Responsive Ads Here

রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ



পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।
বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে প্রবেশ করেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরুর মধ্য দিয়ে। পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১০টার দিকে বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি রেগুলেটরি অথরিটি (BAERA) কর্তৃক অনুমোদিত লাইসেন্স অনুযায়ী ইউনিট–১ রিয়্যাক্টরে প্রথম ধাপে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করানো হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এটি দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ পর্যায় থেকে অপারেশনাল পর্যায়ে উত্তরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। রাশিয়ার রোসাটম প্রযুক্তিতে নির্মিত ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা হবে ২,৪০০ মেগাওয়াট। 
জ্বালানি লোডিং শুরুর পর রিয়্যাক্টরটি ধাপে ধাপে সিস্টেম ভ্যালিডেশন, নিরাপত্তা পরীক্ষা, প্রথম তাপ উৎপাদন এবং ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ পর্যায় অতিক্রম করবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সাইকাত আহমেদ। তিনি বলেন, “জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হলে রিয়্যাক্টরে নিয়ন্ত্রিত নিউক্লিয়ার ফিশন চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হবে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রথম ধাপ।” প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যভাগে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে দুই ইউনিটই পূর্ণ উৎপাদনে যেতে পারে। 
রূপপুর প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার ৯০ শতাংশ অর্থায়ন করছে রাশিয়া। ২০১৭ সালে ইউনিট–১ এবং ২০১৮ সালে ইউনিট–২ নির্মাণ শুরু হয়। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান যাচাই এবং আইএইএ–র সেফগার্ড চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরই জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ বাংলাদেশের আমদানি–নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থায় স্থিতিশীল বেসলোড সরবরাহ নিশ্চিত করবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 
বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের চেয়ারম্যান অনুষ্ঠানে বলেন, “আজকের এই মাইলফলক আমাদের জ্বালানি খাতে নতুন যুগের সূচনা করল।” প্রকল্প এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে উপস্থিত প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা এই অগ্রগতিকে দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ, ইউরেনিয়াম লোডিং, রোসাটম, BAERA, জ্বালানি নিরাপত্তা
রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু, বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে।

সূত্র: ঝলক২৪ টিম

খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন

Pages