সব পণ্যে কিউআর কোড চালুর পরিকল্পনা, কর ফাঁকি ধরা পড়বে সহজেই: এনবিআর
বাংলাদেশের বাজারে ভ্যাট ফাঁকি রোধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সব পণ্যে কিউআর কোড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। ২৬ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর সদর দপ্তরে প্রাক-বাজেট আলোচনায় চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানান, প্রথমে তামাকজাত পণ্যে, পরে ধাপে ধাপে সাবান, শ্যাম্পু, বোতলজাত পানি, টিস্যু, চিনি-সমৃদ্ধ পণ্যসহ সব প্যাকেটজাত পণ্যে কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হবে।
তিনি বলেন, উৎপাদন পর্যায় থেকেই প্রতিটি পণ্যের তথ্য এনবিআরের কেন্দ্রীয় সার্ভারে যুক্ত থাকবে। ফলে মাঠপর্যায়ের ভ্যাট কর্মকর্তারা কিংবা সাধারণ ভোক্তা—যে কেউ স্ক্যান করে জানতে পারবেন পণ্যটি বৈধভাবে উৎপাদিত কি না এবং ভ্যাট পরিশোধ হয়েছে কি না। এতে বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলা কর ফাঁকি ও অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু হলে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই চিহ্নিত হবে। তিনি বলেন, “যারা কর ফাঁকি দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অনিয়মের তথ্য দিলে ভোক্তাদের পুরস্কৃত করা হবে।”
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ কমাতে তিনি আরও বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় কোড ব্যবহার করে। তাই জাতীয় পর্যায়ে কিউআর কোড চালু করা কঠিন হবে না। বরং এতে বাজারে সৎ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অসৎ ব্যবসায়ীদের বৈষম্য কমবে, এবং রাজস্ব আদায় বাড়বে।
এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে তামাকজাত পণ্যের ব্যান্ডরোল ডিজাইনও আধুনিকায়ন করা হবে, যাতে উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ও কিউআর কোড যুক্ত থাকে। পরবর্তী ধাপে বোতলজাত পানীয়, প্রসাধনী ও অন্যান্য ভোক্তা পণ্যে একই ব্যবস্থা চালু হবে।
সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু হলে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এনবিআরও জানিয়েছে, কর আদায় যেন ব্যবসার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করে, সে বিষয়েও তারা সতর্ক থাকবে।