ঝালকাঠিতে সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর বাড়িতে ফের ভাঙচুর, ফটক কেটে উন্মুক্ত করলেন শিক্ষার্থীরা
ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর পরিত্যক্ত বাসভবনে আবারও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী পরিচয় দিয়ে একদল শিক্ষার্থী বাড়ির প্রধান ফটক কেটে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।
বুধবার (৬ মে ২০২৬) দুপুরে ঝালকাঠি শহরের রোনালসে রোডে অবস্থিত আমির হোসেন আমুর তিনতলা বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে। জুলাই ছাত্র আন্দোলনের কর্মী পরিচয় দেওয়া শিক্ষার্থীরা বাড়ির সামনে লাগানো টিনের বেড়া সরিয়ে ফেলেন এবং লোহার গেট ড্রিল মেশিন দিয়ে কেটে অপসারণ করেন। এতে বাড়িটি পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. লিখন বলেন, “ফ্যাসিবাদের দোসরদের আস্তানা জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখতে আমরা টিনের বেড়া অপসারণ করেছি। প্রয়োজনে এটি ময়লার ভাগাড় বা জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।”
এটি আমির হোসেন আমুর বাড়িতে তৃতীয় দফা ভাঙচুরের ঘটনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথম দফায় বিক্ষুব্ধ জনতা বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। সে সময় ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও ভবনটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে একটি লাগেজ থেকে অক্ষত ১ কোটি টাকা এবং অন্যান্য লাগেজ থেকে আংশিক পোড়া ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকাসহ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করে।
কয়েক মাস আগে দ্বিতীয় দফায় বাড়ির সামনের দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়। সম্প্রতি অজ্ঞাত ব্যক্তিরা টিনের বেড়া লাগিয়ে গেট আটকে দিয়েছিলেন, যা বুধবার ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে এবং স্থানীয়রা সেখানে ময়লা ফেলছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, ঘটনাটি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমির হোসেন আমু বর্তমানে কারাবন্দি রয়েছেন। এ ধরনের বারবার ভাঙচুরের ঘটনা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আমির হোসেন আমু বাড়ি ভাঙচুর, ঝালকাঠি আমু বাড়ি, সাবেক মন্ত্রী আমু, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন, জুলাই ছাত্র আন্দোলন, রোনালসে রোড