সিরাজগঞ্জে চিকিৎসক গলাকাটা হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন, ১৫ বছর পর রায়
সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. বাকি মির্জাকে গলাকেটে হত্যার মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুজ্জোহা শাহানশাহ বলেন, “১৫ বছরের দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত দুই আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।” রায় ঘোষণার সময় আনোয়ার হোসেন কিরণ আদালতে উপস্থিত ছিলেন, অন্য আসামি জাকারিয়া মাসুদ পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
২০১১ সালের ১৬ এপ্রিল রাতে সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট চত্বরের সরকারি ব্যাচেলর কোয়ার্টারে নিজ কক্ষে হাত-পা বেঁধে ডা. বাকি মির্জাকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। পরদিন তার স্ত্রী মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১২ সালে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় তিন আসামির মধ্যে একজন রুহুল আমীন বাবু বিচার চলাকালে মারা যাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অপর আসামি ডা. আবদুল লতিফের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদনের কারণে তার বিচারকার্য স্থগিত রয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত জাকারিয়া মাসুদ (৪৩) সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার জানপুর মহল্লার বাসিন্দা ও একটি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি। আনোয়ার হোসেন কিরণ (৪৫) সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের খাগা গ্রামের বাসিন্দা।
এ রায়ে নিহত চিকিৎসকের পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করলেও দ্রুত পলাতক আসামির গ্রেপ্তার দাবি জানিয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনা সিরাজগঞ্জে চিকিৎসক হত্যার আলোচিত মামলা হিসেবে পরিচিত। পুলিশ ও আইনজীবীরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর হলেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ রায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের সক্রিয়তার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিহত ডা. বাকি মির্জার পরিবার এখন দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছে।
ডা. বাকি মির্জা হত্যা, সিরাজগঞ্জ চিকিৎসক হত্যা, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, জাকারিয়া মাসুদ, আনোয়ার হোসেন কিরণ, সিরাজগঞ্জ আদালত রায়, গলাকাটা হত্যা মামলা
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন
