নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝলক২৪ | ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫
বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির সবচেয়ে আলোচিত নাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রেও এখন এআই-এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তথ্যপ্রযুক্তিবিদরা বলছেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের অনেক গতানুগতিক পেশা বদলে যাবে, যা বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য একই সাথে বড় চ্যালেঞ্জ এবং নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।বদলে যাচ্ছে কর্মক্ষেত্রের রূপরেখা:রাজধানীর বিভিন্ন আইটি ফার্ম এবং ফ্রিল্যান্সিং আউটলেটে কাজ করা তরুণদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গ্রাফিক ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং এবং ডাটা এন্ট্রির মতো কাজগুলো এখন অনেক দ্রুত ও সহজে করা সম্ভব হচ্ছে এআই টুলের মাধ্যমে। আগে যে কাজটি করতে ৪-৫ জন মানুষের প্রয়োজন হতো, এখন একজন দক্ষ দক্ষ কর্মী এআই ব্যবহার করে তার চেয়ে বেশি কাজ করতে পারছেন। এতে করে কাজের গতি বাড়লেও গতানুগতিক দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের মধ্যে এক ধরণের উৎকণ্ঠা কাজ করছে।তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনা:তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা একে কেবল ভয় হিসেবে দেখছেন না। আইটি বিশেষজ্ঞ ড. আরীফুর রহমান ঝলক২৪-কে বলেন, "এআই অনেক পুরনো কাজ দখল করলেও হাজার হাজার নতুন ধরনের কর্মসংস্থান তৈরি করছে। যারা ডাটা অ্যানালাইসিস, এআই প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং রোবোটিক্সের মতো আধুনিক বিষয়গুলোতে নিজেকে দক্ষ করে তুলবে, তাদের জন্য দেশি-বিদেশি বাজারে চাকরির অভাব হবে না।"সরকার ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ:বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে 'স্মার্ট বাংলাদেশ' ভিশন বাস্তবায়নে এআই নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে এআই এবং মেশিন লার্নিং নিয়ে বিশেষ কোর্স চালু করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের আইটি খাত থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় নিশ্চিত করা, যেখানে এআই খাতের অবদান থাকবে সবচেয়ে বেশি।প্রয়োজন দ্রুত দক্ষতা উন্নয়ন:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, "আমরা যদি শুধু ডিগ্রি নিয়ে বসে থাকি, তবে পিছিয়ে পড়ব। আমাদের পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি ল্যাপটপে এআই টুলস ব্যবহার শেখা এখন সময়ের দাবি।" ফ্রিল্যান্সারদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে গতানুগতিক দক্ষতার বাইরে প্রযুক্তির আধুনিক সব কলাকৌশল রপ্ত করার কোনো বিকল্প নেই।প্রযুক্তি সবসময়ই বিবর্তিত হয়। শিল্প বিপ্লবের সময়ও মানুষ কাজ হারানোর ভয় পেয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে মানুষই সেই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ করেছে। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সামনে এখন এআই-কে ভয় পাওয়ার বদলে তাকে আয়ত্ত করার সময়। সঠিকভাবে এই বিপ্লবকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির অন্যতম অংশীদার হতে পারবে।
সূত্র: [এখানে সোর্স লিঙ্ক দিন]
বিভাগ: জাতীয় / আন্তর্জাতিক / রাজনীতি / বিনোদন (যেটা প্রযোজ্য)
ঝলক২৪ কোনো সংবাদের দায়ভার নেয় না। পাঠকদের মতামত কমেন্টে জানান।
