নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন চমক নিয়ে হাজির হয়েছে বিএনপি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেলকে ধানের শীষের প্রার্থী করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। নির্ভরযোগ্য দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই আইন কর্মকর্তাকে একটি হাই-প্রোফাইল আসন থেকে নির্বাচনের লড়াইয়ে নামানো হচ্ছে।
কোন আসন থেকে লড়বেন?
দলীয় সূত্রমতে, বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেলকে তাঁর নিজ এলাকা ঝিনাইদহ জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ঝিনাইদহ ১ আসনটি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে তাঁকে এই আসনে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
কেন এই রাজনৈতিক চমক?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন দক্ষ এবং অভিজ্ঞ আইন বিশেষজ্ঞকে রাজনীতিতে নিয়ে আসা বিএনপির এক নতুন কৌশল। দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের মতো একজন ব্যক্তিত্ব প্রার্থী হলে নির্বাচনী মাঠে দলের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে। বিশেষ করে শিক্ষিত ও সচেতন ভোটারদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ধানের শীষের পক্ষে বড় জয় নিয়ে আসতে পারে।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া:
সংশ্লিষ্ট আসনের স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে এই খবরে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক জ্যেষ্ঠ নেতা ঝলক২৪-কে বলেন, "আমরা একজন হেভিওয়েট প্রার্থী চাচ্ছিলাম। বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল যদি আমাদের আসন থেকে লড়াই করেন, তবে সাধারণ মানুষ দলমত নির্বিশেষে তাঁকে সমর্থন দেবে।"
অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য:
নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, জনগণের সেবা করার সুযোগ পেলে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হতে আগ্রহী।
বিপক্ষের প্রতিক্রিয়া:
এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতো একটি সাংবিধানিক পদে থাকাকালীন তাঁর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিধি মোতাবেক পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিএনপির গুলশান কার্যালয় থেকে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
