 |
| photo: collected |
জানুয়ারি ০৬, ২০২৬, নিউজ ডেস্ক
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক গণভোটকে সামনে রেখে প্রচারণা শুরু হয়েছে। তবে গণভোট নিয়ে সরকারের প্রচার কার্যক্রম পর্যাপ্ত ও কার্যকর নয় বলে সমালোচনা হচ্ছে, এমনকি সরকারের সমর্থক সুশীল সমাজের কাছ থেকেও।
গণভোট: একদিকে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ, অন্যদিকে ব্যাপক কর্মশালার পরিকল্পনা
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সম্প্রতি অভিযোগ করেন যে, গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার পর্যাপ্ত প্রচার চালাচ্ছে না এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করছে না। তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে কার্যকর কোনো প্রচারণা চালাচ্ছে না।
অন্যদিকে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, ৪ জানুয়ারি সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় গণভোটের বিষয়বস্তু জনগণের কাছে পৌঁছাতে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় প্রতিটি বিভাগে বড় কর্মশালার আয়োজন করা হবে, যেখানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে বার্তা পৌঁছানো হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ধর্মীয় নেতাদেরও প্রশিক্ষণ দিয়ে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে, ডিসেম্বরের শুরুতেই তথ্য ও সম্প্রচার, ধর্ম, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করে একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছিল।
নির্বাচনী প্রচারণা: নতুন বিধিনিষেধ ও হলফনামা তথ্য প্রচারের নির্দেশ
এদিকে, নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বেশ কিছু নতুন বিধি আরোপ করেছে। প্রথমবারের মতো নির্বাচনী প্রচারণায় যেকোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও, ব্যানার বা লিফলেটে দলীয় প্রধান ছাড়া অন্য কারো ছবি ব্যবহার, ড্রোন ব্যবহার এবং নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি বিলবোর্ড ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। প্রচারণায় হেলিকপ্টার ব্যবহারের সুযোগ শুধুমাত্র দলীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্যই সীমিত।
এবার আরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রার্থীদের হলফনামার তথ্য প্রকাশ ও প্রচারের ওপর। নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে যে প্রার্থীদের জন্মতারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আয়ের উৎস, সম্পদ-দায় এবং মামলার তথ্যসহ হলফনামার ১০টি তথ্য ভোটারদের মধ্যে লিফলেট আকারে প্রচার করতে হবে। এসব তথ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হবে এবং কোনও প্রার্থী অসত্য তথ্য দিলে মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পাশাপাশি ভোটের পরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারের সময়সূচী ও গণভোটের প্রশ্ন
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং শেষ হবে ভোটের ৪৮ ঘন্টা আগে অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে ভোটগ্রহণের পাশাপাশি একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট সাদাকালো এবং গণভোটের ব্যালট গোলাপি রঙের হবে।
গণভোটে "জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫" এর কয়েকটি প্রস্তাব সম্পর্কে জনগণের সম্মতি যাচাই করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রচারণায় 'হ্যাঁ' বা 'না' ভোট দেওয়ার বিষয়ে নয়, বরং গণভোটের প্রশ্নগুলো ও প্রস্তাবিত সংস্কার সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার চেষ্টা করা হবে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের মতে, গণভোটের জন্য তৈরি চারটি প্রশ্ন সম্পর্কে জনসাধারণের ৯৫ ভাগ এখনো অবগত নন।
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন