০৬ জানুয়ারি, ২০২৬, নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতীয় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা ও সাংসদ শশী থারুর। তিনি এই সিদ্ধান্তকে "অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক", "অদূরদর্শী" এবং "নিন্দনীয়" আখ্যা দিয়ে বলেন, এই বিব্রতকর পরিস্থিতি ভারত "নিজেরাই ডেকে এনেছে"।
থারুরের প্রধান সমালোচনা ও যুক্তি
শশী থারুর তাঁর সমালোচনায় বেশ কয়েকটি স্পষ্ট যুক্তি ও প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন:
· খেলায় অপ্রয়োজনীয় রাজনীতি: থারুরের মতে, "খেলাধুলাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত" এবং "রাজনৈতিক ব্যর্থতার বোঝা খেলাধুলার উপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়"। তিনি এই সিদ্ধান্তকে "খেলাধুলার ক্ষেত্রে অযথা রাজনীতি ঢুকিয়ে দেওয়ার শামিল" বলে বর্ণনা করেন।
· বাংলাদেশ-পাকিস্তান সমীকরণ প্রত্যাখ্যান: তিনি জোর দিয়ে বলেন, "বাংলাদেশ পাকিস্তান নয়। বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসী পাঠাচ্ছে না"। তিনি উল্লেখ করেন যে ভারতের সাথে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কের স্তর সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং "এই দুই দেশকে এক সরল সমীকরণে ফেলা যায় না"।
· নৈতিক দ্বৈততার প্রশ্ন: থারুর একটি তীক্ষ্ণ নৈতিক প্রশ্ন তোলেন: যদি লিটন দাস বা সৌম্য সরকারের মতো বাংলাদেশের হিন্দু ক্রিকেটাররা নিলামে উঠতেন, তাহলে কি তাদেরও একইভাবে বাদ দেওয়া হতো? তিনি বলেন, এই ভিন্ন আচরণের মাধ্যমে "মুসলিম বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে, কিন্তু হিন্দু বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে নই" এমন একটি বিভ্রান্তিকর বার্তা যেতে পারে।
· সামাজিক মাধ্যমের চাপে নেওয়া সিদ্ধান্ত: থারুরের অভিমত, এই সিদ্ধান্ত "সামাজিক মাধ্যমের ক্ষোভের বোঝা" এবং "চাপে নেওয়া এক ধরনের প্রতিক্রিয়াশীল পদক্ষেপ", যা ভেবেচিন্তে নেওয়া হয়নি।
ঘটনার পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
· মুস্তাফিজের নিলাম ও বাদ পড়া: ২০২৬ সালের আইপিএল নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) রেকর্ড ৯.২০ কোটি রুপিতে মুস্তাফিজকে কিনেছিল। তবে, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের কিছু রাজনৈতিক ও উগ্র গোষ্ঠীর চাপের পরে, বিসিসিআই কর্তৃক নির্দেশ পেয়ে কেকেআর তাকে দল থেকে ছাড় দেয়।
· বাংলাদেশের জবাবি সিদ্ধান্ত: এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল না পাঠানোর এবং তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ আইসিসিকে জানিয়েছে। বিসিবি তাদের বিবৃতিতে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও সরকারি পরামর্শকে এই সিদ্ধান্তের কারণ উল্লেখ করে।
ব্যাপক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনা কেবল একটি খেলোয়াড়ের চুক্তি শেষ হওয়ার চেয়ে অনেক বড় প্রভাব ফেলেছে। এটি সরাসরি দুই দেশের ক্রীড়া ও কূটনৈতিক সম্পর্কে ফাটল ধরিয়েছে। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিসিসিআই একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করেছে, যেখানে বাণিজ্য, কূটনীতি ও সংস্কৃতির মতো বহুস্তরীয় সম্পর্কের চাপ শুধুমাত্র ক্রিকেটের ওপর এসে পড়ছে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ইতিমধ্যেই দেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছেন।
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন