০৬ জানুয়ারি, ২০২৬, নিউজ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সফল অভিযানের পর কলম্বিয়াকে পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইঙ্গিত দিয়েছেন। সামরিক অভিযানের সম্ভাবনার প্রশ্নে তিনি বলেছেন, "এটা আমার কাছে ভালোই শোনাচ্ছে"। জবাবে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অস্ত্র হাতে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
🔥 উত্তেজনার সূত্রপাত
· ট্রাম্পের অভিযোগ: ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি, সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে "একজন অসুস্থ মানুষ" বলে উল্লেখ করেন, যিনি "কোকেন তৈরি করতে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করেন"। তিনি বলেন পেত্রো "আর খুব বেশি দিন এটা করতে পারবেন না"।
· সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত: সরাসরি কোনো অভিযানের পরিকল্পনা স্বীকার না করলেও, কলম্বিয়ায় মার্কিন অভিযানের সম্ভাবনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে ট্রাম্প উত্তর দেন, "এটা আমার কাছে ভালোই শোনাচ্ছে"।
🇨🇴 কলম্বিয়ার তীব্র জবাব
ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট পেত্রো কড়া জবাব দেন:
· অস্ত্র হাতে নেওয়ার হুঁশিয়ারি: এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে, ১৯৮৯ সালের শান্তিচুক্তির পর অস্ত্র না ছোঁয়ার শপথের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পেত্রো বলেন, "মাতৃভূমির প্রয়োজনে আমি আবারও অস্ত্র হাতে তুলে নেব"।
· সার্বভৌমত্বের ডাক: পেত্রো স্পষ্ট করেন যে তিনি সংবিধান অনুসারে কলম্বিয়ার সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ অধিনায়ক। তিনি সতর্ক করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ সাধারণ নাগরিক ও শিশুদের জীবনহানি ঘটাবে এবং দেশটিতে গেরিলা যুদ্ধের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে পারে।
· প্রত্যাখ্যান ও সমালোচনা: পেত্রো ট্রাম্পের অভিযোগগুলোকে "অনুচিত হস্তক্ষেপ" ও "মিথ্যা তথ্য" বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপেরও নিন্দা জানান।
📜 উত্তেজনার পটভূমি
ট্রাম্পের এই হুমকি হঠাৎ আসেনি। এর পেছনে কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা কাজ করেছে:
· নতুন পররাষ্ট্রনীতি: ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে ১৮২৩ সালের 'মনরো ডকট্রিন'-এর আদলে পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার নীতি ঘোষণা করেন, যাকে তিনি 'ডনরো ডকট্রিন' নাম দিয়েছেন। ভেনেজুয়েলায় অভিযান এই নীতিরই অংশ।
· দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি: গত কয়েক মাসে ট্রাম্প প্রশাসন কলম্বিয়ার ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং মাদকবিরোধী মিত্রদেশের তালিকা থেকে তাদের বাদ দিয়েছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়ার ডানপন্থী বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে।
🌎 আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
এই সংকট শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই:
· কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের বক্তব্যকে "অন্তর্ঘাতমূলক" এবং "আন্তর্জাতিক আইনের নীতির পরিপন্থী" বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
· বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাক্কালে ট্রাম্পের এই হুমকি দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হিসেবেও দেখা যাচ্ছে।
· ট্রাম্প একইসঙ্গে মেক্সিকো, কিউবা, ইরান ও গ্রিনল্যান্ডের বিরুদ্ধেও সতর্কবার্তা বা পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা জুড়ে মার্কিন হস্তক্ষেপের দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে এই অঞ্চলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি এখন যেখানে দাঁড়িয়েছে
এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেয়নি। তবে, ট্রাম্পের হুমকি এবং পেত্রোর কঠোর জবাব আঞ্চলিক সম্পর্ককে অত্যন্ত স্পর্শকাতর পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এ মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন