ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য ভালো ফলাফলের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এই ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও সখ্যতা গড়ে তুলতে চায়। ঢাকায় নিযুক্ত এক মার্কিন কূটনীতিকের বক্তব্যের অডিও রেকর্ডিং থেকে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামপন্থার দিকে ঝোঁক লক্ষ্য করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে জামায়াতে ইসলামী ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে চারটি বৈঠক করেছে এবং ঢাকায় আরও কয়েকটি আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির সঙ্গেও সাক্ষাৎ রয়েছে। ১ ডিসেম্বর ঢাকায় এক বৈঠকে নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক মার্কিন কূটনীতিক বলেন, “আমরা চাই তারা (জামায়াতে ইসলামী) আমাদের বন্ধু হোক।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ ইসলামী পথে ফিরে এসেছে এবং জামায়াত শরিয়া চাপিয়ে দেবে বলে তিনি মনে করেন না। তবে যদি দলটি ক্ষমতায় এসে ওয়াশিংটনের অপছন্দের কোনো পদক্ষেপ নেয়, যেমন নারীদের কর্মঘণ্টা পাঁচ ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ করা বা কর্মক্ষেত্র থেকে বাদ দেওয়া, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তৈরি পোশাকশিল্পের মাধ্যমে জবাব দেবে। কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ২০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায় এবং অর্থনীতি সামাজিকভাবে উদার গার্মেন্টস সাপ্লাই চেইনের ওপর নির্ভরশীল, তাই এমন কোনো নীতি চালু হলে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো অর্ডার যাবে না এবং দেশের অর্থনীতি টিকে থাকবে না। আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে জামায়াতে ইসলামী তার ইতিহাসের সেরা ফলাফলের আশা করছে। দলটি এখন দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, স্বচ্ছতা ও সুশাসনের ওপর জোর দিচ্ছে এবং শরিয়া প্রয়োগের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে দলের মুখপাত্র জানিয়েছেন।
মেটা কিওয়ার্ড: জামায়াতে ইসলামী, যুক্তরাষ্ট্র, ওয়াশিংটন পোস্ট, বাংলাদেশ নির্বাচন, মার্কিন কূটনীতিক, তৈরি পোশাকশিল্প, শরিয়া আইন
যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বন্ধুত্ব চায় বলে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন; অডিওতে কূটনীতিকের উক্তি ও নির্বাচন প্রেক্ষাপটে আলোচনা
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন