আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন শুধু নতুন সরকার গঠনের নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন ও সংস্কারের একটি পরীক্ষাও বটে। একই দিনে জুলাই চার্টারের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটাররা দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন—পার্লামেন্ট নির্বাচন এবং সাংবিধানিক সংস্কার।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনকে 'ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের মানদণ্ড' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতে বলেছেন যে, এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে। প্রচারণা শুরু হয়েছে ২২ জানুয়ারি থেকে, যেখানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিভিন্ন নেতা জনসভা করছেন। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোট, জাতীয় পার্টি (এরশাদ), এনসিপি এবং অন্যান্য দল সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছে। প্রার্থী সংখ্যা ১,৮৪২-এরও বেশি, নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। তবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনকে 'অসম্পূর্ণ' বলে সমালোচনা উঠেছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি ঐতিহাসিক দ্বিমেরু রাজনীতির পরিবর্তন ঘটিয়েছে, যা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।
এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। নির্বাচন কমিশন ১২৭ মিলিয়নেরও বেশি ভোটারের তালিকা প্রস্তুত করেছে, যার মধ্যে ৭.৯ মিলিয়ন নতুন ভোটার। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে কমনওয়েলথ গ্রুপ (নানা আকুফো-আড্ডোর নেতৃত্বে) উপস্থিত থাকবে। জাতিসংঘ নির্বাচন প্রস্তুতিকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে কিছু মহলে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও বয়কটের আলোচনা চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগ, বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পরবর্তী সরকারের জন্য দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি সুযোগ—পুরনো দ্বন্দ্ব ছেড়ে নতুন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার। ভোটারদের অংশগ্রহণ, শান্তিপূর্ণ প্রচারণা ও ফলাফল মেনে নেওয়াই হবে সত্যিকারের সাফল্যের মাপকাঠি। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই ভোটের সততা ও অংশগ্রহণের ওপর।
নির্বাচন ২০২৬, ত্রয়োদশ সংসদ, অন্তর্বর্তী সরকার, গণভোট, জুলাই চার্টার, বিএনপি, জামায়াত
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচন: গণতন্ত্র পুনর্গঠনের সুযোগ, অবাধ-সুষ্ঠু ভোটের প্রত্যাশা।
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন