ইরানে মার্কিন অস্ত্র উদ্ধার ও বিদেশী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেয়ার দাবি - ঝলক২৪ | এক ঝলকে সারাদিন | সর্বশেষ খবর ও ব্রেকিং নিউজ

ঝলক২৪ | এক ঝলকে সারাদিন | সর্বশেষ খবর ও ব্রেকিং নিউজ

ঝলক২৪ | সর্বশেষ সংবাদ ও ব্রেকিং নিউজ । বস্তুনিষ্ঠ খবরের নির্ভরযোগ্য নিউজ পোর্টাল। 🔵 Facebook 🔴 YouTube

| |
| |

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬

ইরানে মার্কিন অস্ত্র উদ্ধার ও বিদেশী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেয়ার দাবি

photo collected


১৪ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ ডেস্ক
ইরানের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মার্কিন তৈরি অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের দাবি করেছে, যা সন্ত্রাসী সেলের সদস্যদের কাছে ছিল। এছাড়া, একটি আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী ট্রাক থেকে ২৭৩টি অস্ত্র উদ্ধার করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি। কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশে সহিংসতা উসকে দিতে বিদেশি এজেন্ট মোতায়েন করেছে।

ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা সংস্থার অভিযানে মার্কিন তৈরি অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব অস্ত্র সন্ত্রাসী সেলের সদস্যদের কাছে ছিল, যারা চলমান বিক্ষোভে সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করছিল। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অভিযানে বিদেশি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সেল ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের ভেতর দিয়ে চলাচলরত একটি আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী ট্রাক থেকে ২৭৩টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অস্ত্রগুলো বিদেশি সংযোগের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফার্স নিউজ এজেন্সির সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনা চলমান বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে বলেন, "ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের হুমকির জবাবে আমরা সব ধরনের বিকল্পের জন্য প্রস্তুত।" এছাড়া, গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে বিদেশি এজেন্ট মোতায়েন করেছে, যাতে পরবর্তীতে সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরি করা যায়।
ঘটনার কালানুক্রম অনুসারে, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়, যা অর্থনৈতিক সংকট ও নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে গোয়েন্দা অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার হয়। ৮ জানুয়ারি তেহরানে বিক্ষোভকারীদের আগুনে গাড়ি জ্বালানোর ঘটনা ঘটে, যা রয়টার্সের ছবিতে ধরা পড়েছে।

হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুসারে, বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৩৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ১০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান সরকার বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে আছে। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার এবং নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ফলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিকভাবে, ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল, যা বর্তমান অস্থিরতার সঙ্গে মিলে যায়।
ইরানের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এই অস্ত্র উদ্ধার দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে এবং বিদেশি ষড়যন্ত্র রোধ করতে সাহায্য করবে। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ তুলেছে।

ইরান, মার্কিন অস্ত্র, বিস্ফোরক উদ্ধার, বিদেশী নেটওয়ার্ক, গোয়েন্দা সংস্থা, বিক্ষোভ, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, মানবাধিকার

সূত্র: ঝলক২৪ টিম

খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন

Pages