উগান্ডায় বিরোধী দলের নেতা ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে, যা আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। বিশ্লেষকরা এটিকে সরকারের দমনমূলক কৌশল হিসেবে দেখছেন।
কম্পালায়, উগান্ডার রাজধানীতে ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাত ৯টায় উগান্ডা পুলিশ ফোর্সের বিশেষ ইউনিট স্থানীয় সময় অনুসারে উগান্ডা ন্যাশনাল ইউনিটি প্ল্যাটফর্ম (NUP) দলের নেতা এবং প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ববি ওয়াইনকে তার কম্পালাস্থিত বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এই অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলেন উগান্ডা পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল মার্টিন ওকোতা-ওলেঙ্গের নেতৃত্বাধীন টিম, যারা অভিযোগ করেছে যে ওয়াইন বিদেশী শক্তির সাথে যোগাযোগ করে দেশবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন। গ্রেফতারের পর ওয়াইনকে কম্পালার কেন্দ্রীয় পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে কোর্টে হাজির করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই ঘটনার পূর্ণ কালানুক্রমিক ধারাবাহিকতা দেখলে বোঝা যায় যে, ২০২১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওয়াইনের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছিল এবং পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে, ২০২৬ সালের নির্বাচনের দিকে এগোয়া উগান্ডায় সরকারের বিরোধীদের উপর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে, যা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে। গ্রেফতারের পর NUP দলের সহ-সভাপতি নিউজল্যান্ড মাঙ্গালা বলেন, "এটি একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, আমরা আমাদের নেতার মুক্তির জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাব।" পরিসংখ্যান অনুসারে, উগান্ডায় গত এক বছরে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে ১৫০টিরও বেশি গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে, যা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখিত। এই গ্রেফতারের ফলে উগান্ডার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার আলোচনা শুরু হয়েছে।
উগান্ডা গ্রেফতার, ববি ওয়াইন, প্রেসিডেন্ট প্রার্থী, রাজনৈতিক দমন, NUP দল, কম্পালা পুলিশ
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন