বাংলাদেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে ওভার-দ্য-টপ (ওটিপি) ছাড়াই হ্যাকাররা অননুমোদিত অ্যাক্সেস নিচ্ছে, যা অর্থ চুরির ঘটনা বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা সাইবার নিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন।
ঢাকা মহানগরে গত ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি শাখায় একজন গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে ৫ লাখ টাকা অনলাইনভাবে স্থানান্তরিত হয়েছে, যেখানে কোনো ওটিপি ব্যবহার করা হয়নি এবং গ্রাহকের ফোন বা ইমেলে কোনো সতর্কতা পাঠানো হয়নি। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হলেন মোহাম্মদ রাহিম, যিনি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী এবং তাঁর অ্যাকাউন্টটি ব্র্যাক ব্যাংকের সাথে যুক্ত ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের প্রধান আব্দুল করিম জানান, এই হ্যাকিংয়ের পেছনে ফিশিং এবং ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে পাসওয়ার্ড চুরির কার্যক্রম জড়িত, যা গত ২০২৫ সালের জুলাই থেকে শুরু হয়েছে যখন প্রথমবারের মতো এমন একটি ঘটনা রিপোর্ট হয় এবং সেই সময় থেকে দেশজুড়ে অন্তত ২৫০টি অনুরূপ অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে যার মধ্যে গড়ে ৩০ লাখ টাকার অর্থচুরির ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) এবং বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের যৌথ তদন্তে জানা গেছে যে হ্যাকাররা প্রায়শই পাবলিক ওয়াই-ফাই বা অসুরক্ষিত অ্যাপের মাধ্যমে ডেটা চুরি করে এবং এর ফলে ব্যাংকিং সেক্টরে ১৫ শতাংশ নিরাপত্তা লঙ্ঘন বৃদ্ধি পেয়েছে। রাহিম বলেন, "আমার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরি হওয়ার পর আমি বুঝতে পারিনি কীভাবে এটা সম্ভব, কিন্তু এখন আমি সব লেনদেনের জন্য দ্বি-পর্যায় সতর্কতা অবলম্বন করছি।" বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে ব্যাংক গ্রাহীরা শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন, অজানা লিংকে ক্লিক এড়িয়ে চলুন এবং নিয়মিত অ্যাকাউন্ট মনিটরিং করুন, যাতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা যায় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিকা অনুসারে দ্রুত রিপোর্টিং করে ক্ষতি পূরণের চেষ্টা করা সম্ভব হয়।
ব্যাংক হ্যাকিং, ওটিপি সুরক্ষা, সাইবার ক্রাইম, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ চুরি প্রতিরোধ
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন