তেহরান, ৯ জানুয়ারি ২০২৬:
ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনলাইন পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস (NetBlocks) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে থেকে ইরানে জাতীয় পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট শুরু হয়েছে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
এই ব্ল্যাকআউটের ফলে দেশের লাখ লাখ নাগরিক বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। টেলিফোন সংযোগও অনেক এলাকায় ব্যাহত হয়েছে বলে জানা গেছে। নেটব্লকসের মতে, এই পদক্ষেপটি বিক্ষোভ দমনের জন্য নেওয়া ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সেন্সরশিপের অংশ, যা জনগণের তথ্যপ্রাপ্তি ও যোগাযোগের অধিকারকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিক্ষোভের পটভূমি
গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। ইরানি রিয়ালের (মুদ্রা) অবমূল্যায়ন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রথমে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে দোকানদারদের বিক্ষোভ থেকে শুরু হলেও এখন তা দেশের প্রায় সব প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা এখন শুধু অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদই করছেন না, বরং শাসকগোষ্ঠীর পতনের দাবি তুলছেন।
নির্বাসিত ইরানের যুবরাজ রেজা পাহলভি বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় জানালা থেকে স্লোগান দেওয়ার আহ্বান জানান। এর পরপরই বড় বড় জমায়েত গড়ে ওঠে এবং ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮ জন শিশু। আহতের সংখ্যা অনেক বেশি। নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস, গুলি ও হামলা চালিয়ে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করছে। কয়েকটি শহরে সরকারি ভবন ও রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার ভবনে আগুন দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইরান সরকার এখনও ইন্টারনেট বন্ধের কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে অতীতে একই ধরনের সংকটে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে। ইন্টারনেট সংযোগ পুনরুদ্ধার না হলে বিক্ষোভের গতি ও প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন