বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুরের সমর্থনে অসহযোগিতার অভিযোগে দুই উপজেলার কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এটি নির্বাচনী মাঠে দলীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলায় ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে উপজেলা বিএনপির বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে, যা পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্রি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটনের কাছে পাঠানো হয়। এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপির জোটের প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের পক্ষে নির্বাচনী কাজ না করা এবং দল থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে, যা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার শামিল। এর পূর্বপ্রেক্ষাপটে বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী না দিয়ে জোট শরিক গণঅধিকার পরিষদকে সমর্থন দিলেও স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশ জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থনে অনড় অবস্থান নেয়, ফলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই কঠোর পদক্ষেপ নেয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। গলাচিপা উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘যে ব্যক্তি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, সেখানে কর্মীদেরও বহিষ্কৃত হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে। আমাদের অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুযোগ নেই, আমরা হাসান মামুনের সঙ্গেই আছি।’ এই ঘটনা নির্বাচনের আগে বিএনপির জোটভিত্তিক প্রচারণায় ঐক্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দমনের প্রতিফলন হিসেবে রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হয়েছে।
বিএনপি কমিটি বিলুপ্ত, নুরুল হক নুর, পটুয়াখালী-৩ আসন, গলাচিপা দশমিনা, নির্বাচনী শৃঙ্খলা, জোট প্রার্থী
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন