সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানকালে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত র্যাব কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার ঘটনায় র্যাব মহাপরিচালক কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এলাকাটিকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য বলে চিহ্নিত করে অবৈধ বসতি ও অস্ত্রধারীদের নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় র্যাব-৭ সদর দপ্তরে ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুপুরে নিহত র্যাব কর্মকর্তা নায়েক সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার নামাজে জানাজা শেষে র্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) একেএম শহিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সন্ত্রাসীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে এবং এখানকার অবৈধ বসতি ও অস্ত্রধারীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, "যারা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে এবং এলাকাটিকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে কঠোর অভিযান চালানো হবে।" এর পূর্বপ্রেক্ষাপটে গত ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের অভিযানে র্যাব-৭-এর একটি দল মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪০০-৫০০ জনের মতো সন্ত্রাসীর হামলার শিকার হয়। হামলাকারীরা র্যাব সদস্যদের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পায়ে গুলি করে এবং লাঠি-রড-কাঠ দিয়ে পিটিয়ে মোতালেবকে ঘটনাস্থলে হত্যা করে। একই হামলায় আরও তিন র্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন, যারা চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে উচ্ছেদ ও খুনোখুনির ঘটনা বেড়েছে। র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এআরএম মোজাফফর হোসেন বলেন, "এই হামলা সন্ত্রাসীদের সংগঠিত প্রতিরোধের প্রমাণ এবং আমরা যৌথ বাহিনীর সঙ্গে অভিযান চালিয়ে এলাকাটিকে পরিষ্কার করব।" এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা ও সন্ত্রাসী আধিপত্যের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং কঠোর অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
র্যাব সদস্য হত্যা, জঙ্গল সলিমপুর, সীতাকুণ্ড অভিযান, মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া, সন্ত্রাসী হামলা, র্যাব কঠোর অভিযান
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন