নিপা ভাইরাস: মারাত্মক জুনোটিক রোগ, মৃত্যুর হার ৪০–৭৫%
নিপা ভাইরাস (Nipah virus) একটি জুনোটিক ভাইরাস যা ফলের বাদুড় (Pteropus প্রজাতি) থেকে মানুষে ছড়ায় এবং মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণও ঘটতে পারে। এটি মস্তিষ্কপ্রদাহ (encephalitis) ও শ্বাসযন্ত্রের গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করে এবং কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ বা টিকা নেই। বাংলাদেশ ও ভারতে প্রায় প্রতি বছরই ছোটখাটো প্রাদুর্ভাব দেখা যায় বিশেষ করে শীতকালে।
নিপা ভাইরাস প্রথম ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় শনাক্ত হয় যেখানে শূকর চাষীদের মধ্যে প্রাদুর্ভাব ঘটে এবং ১০৮ জনের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে প্রায় প্রতি বছরই কেস দেখা যায় যার মধ্যে মোট ৩৪৭টি কেস নিশ্চিত হয়েছে এবং মৃত্যুর হার ৭১.৭%। সাম্প্রতিককালে ২০২৫-২০২৬ সালে বাংলাদেশে কয়েকটি কেস এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দুটি কেস (হেলথকেয়ার ওয়ার্কারদের মধ্যে) নিশ্চিত হয়েছে যা মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
সংক্রমণের প্রধান উপায় হলো ফলের বাদুড়ের লালা, প্রস্রাব বা মল দিয়ে দূষিত খাবার খাওয়া যেমন কাঁচা খেজুরের রস (তাড়ি বা কাঁচা খেজুরের রস), ফল বা ফলের পণ্য। অন্যান্য উপায়ে সংক্রমিত শূকর বা অন্যান্য প্রাণীর সংস্পর্শ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ যা রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ফোঁটা, লালা, প্রস্রাব বা শরীরের তরলের সংস্পর্শে ঘটে বিশেষ করে পরিবারের সদস্য বা স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে। ইনকিউবেশন পিরিয়ড ৪–১৪ দিন।
প্রাথমিক লক্ষণগুলো ফ্লু-জাতীয় যেমন জ্বর, মাথাব্যথা, পেশীতে ব্যথা, গলা ব্যথা, বমি বমি ভাব। পরে গুরুতর হলে মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি, অচেতনতা, খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট এবং মস্তিষ্কপ্রদাহ দেখা যায় যা কোমায় নিয়ে যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অ্যাসিম্পটম্যাটিকও হতে পারে কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গুরুতর এবং মৃত্যুর হার উচ্চ।
চিকিৎসা শুধুমাত্র সাপোর্টিভ যেমন শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়তা, তরল ও পুষ্টি সরবরাহ এবং জটিলতা নিয়ন্ত্রণ। কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল নেই।
সতর্কতা ও প্রতিরোধের জন্য: কাঁচা খেজুরের রস পান করবেন না বিশেষ করে শীতকালে (নভেম্বর–মার্চ) যখন বাদুড়ের কার্যকলাপ বেশি; খেজুর গাছের চারপাশে বাঁশের ঢাকনা বা জাল দিয়ে বাদুড় থেকে রক্ষা করুন; ফল বা ফলের পণ্য খাওয়ার আগে ভালো করে ধুয়ে নিন বা সেদ্ধ করে খান; বাদুড় বা অসুস্থ প্রাণীর সংস্পর্শ এড়ান; অসুস্থ ব্যক্তির যত্ন নেয়ার সময় মাস্ক, গ্লাভস পরুন এবং হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন; রোগীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ কমান এবং আলাদা বিছানায় ঘুমান; লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যান এবং অন্যদের সংস্পর্শ কমান।
নিপা ভাইরাস, জুনোটিক রোগ, ফলের বাদুড়, খেজুরের রস, মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ, encephalitis, প্রতিরোধ
নিপা ভাইরাস মারাত্মক জুনোটিক রোগ যা বাদুড় থেকে ছড়ায় মৃত্যুর হার ৪০–৭৫% কাঁচা খেজুরের রস এড়ান ও হাত ধোয়ার মাধ্যমে প্রতিরোধ সম্ভব।