পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের বার্তা পর্যালোচনা করছে তেহরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো নতুন বার্তা ও প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে তেহরান। এতে পরমাণু কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিষেধাজ্ঞা প্রশমনসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বুধবার ২০ মে ২০২৬ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাগায়ি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ওয়াশিংটন থেকে পাকিস্তানের মাধ্যমে কিছু সংশোধিত পয়েন্ট ও বিবেচনা পেয়েছি। আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করে জবাব দিয়েছি। প্রক্রিয়াটি পাকিস্তানের মাধ্যমে চলমান রয়েছে।”
ঘটনার পটভূমিতে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হয়। তবে পূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারায় পরোক্ষ বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এই মধ্যস্থতায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত শুক্রবার বলেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আক্রমণের গ্যারান্টি চাওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রক্সি গ্রুপগুলোর সমর্থন কমানোর শর্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
পাকিস্তান এই প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দেশটির সামরিক প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও তেহরান ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এই বার্তা বিনিময়ের ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে বলে কূটনীতিকরা মনে করছেন। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থার ঘাটতি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।
পাকিস্তান মধ্যস্থতা, ইরান যুক্তরাষ্ট্র বার্তা বিনিময়, তেহরান ওয়াশিংটন আলোচনা, আব্বাস আরাগচি, হরমুজ প্রণালি নিরাপত্তা