কিচেন কেবিনেটের সিদ্ধান্তে চলত অন্তর্বর্তী সরকার, অভিযোগ সাবেক উপদেষ্টাদের
সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের দাবি অনুসারে, অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আনুষ্ঠানিক কেবিনেটে নয়, বরং সাত সদস্যের একটি ‘কিচেন কেবিনেট’-এ নেওয়া হতো।
ঢাকা, ২৫ মে: অন্তর্বর্তী সরকারের (২০২৪-২০২৬) সময়কালে বড় সিদ্ধান্তগুলো উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে থেকে নেওয়া হতো বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, “সাত সদস্যের কিচেন কেবিনেট সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো। প্রতি মঙ্গলবার জামুনায় তাদের নিয়মিত বৈঠক হতো।” তিনি আরও জানান, এই প্রক্রিয়ায় তার মতামত উপেক্ষিত হওয়ায় তিনি তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কিন্তু সরকার তা গ্রহণ করেনি।
সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত কেবিনেটের বাইরে আলোচনা হয়েছে। এতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বাণিজ্য উপদেষ্টার মতো ব্যক্তিদের প্রভাব ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন করে। এ সময়ে রোহিঙ্গা ইস্যু, বাণিজ্য চুক্তি, নির্বাচনী প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তৌহিদ হোসেন উল্লেখ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো ভূমিকা ছিল না।
এসব অভিযোগ অন্তর্বর্তী সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কিচেন কেবিনেটের মাধ্যমে সরকার পরিচালনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেননি।
এ ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে।
কিচেন কেবিনেট, অন্তর্বর্তী সরকার, তৌহিদ হোসেন, এম সাখাওয়াত হোসেন, ইউনূস সরকার, সাবেক উপদেষ্টা