শাহজাদপুরে ডাকাতের রক্তমাখা চিঠি: পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন, গ্রামে আতঙ্ক
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার টেকুয়াপাড়া গ্রামে রক্তমাখা চিঠি দিয়ে হত্যা ও ডাকাতির হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ‘রঘু ডাকাত’ নামে স্বাক্ষরিত চিঠিতে দরজা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়ে না মানলে জীবনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
১৬ মে ২০২৬ শনিবার গভীর রাতে সিরাজগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি গ্রামবাসীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস দেন। গত চার-পাঁচ দিনে গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামের অন্তত ১৫টি গো-খামারির বাড়িতে এ ধরনের চিঠি পৌঁছেছে।
পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, “পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। গ্রামবাসীর নিরাপত্তায় লাঠি, টর্চলাইট ও বাঁশি সরবরাহ করা হবে। পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে গ্রামকে নিরাপদ রাখা হবে।” তিনি দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কথা জানান।
প্রেক্ষাপটে জানা যায়, চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। একটি বাড়ি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার ষাঁড় গরু চুরি হয়েছে। আরেকটিতে লকার ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ লাখ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গবাদিপশু নিয়ে খামারিরা চরম উদ্বেগে রয়েছেন। অনেকে রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন।
স্থানীয় খামারি আমজাদ হোসেন জানান, সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় পেয়ে নিজেও অচেতন হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফিরে দেখেন গরু ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট হয়ে গেছে। আবু সাঈদের বাড়িতে পাঠানো চিঠিতে রক্তের দাগসহ হুমকি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে লেখা হয়, “কালকে আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসব, দরজা খোলা রাখবেন। না খুললে জিন্দা খালাস... ইতি রঘু ডাকাত।”
ঘটনায় শাহজাদপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকায় টহল বাড়িয়েছে। উপজেলা প্রশাসনও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এ ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে, সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ছে।
শাহজাদপুর রক্তমাখা চিঠি, রঘু ডাকাত, সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার, গো খামারি ডাকাতি, টেকুয়াপাড়া আতঙ্ক, সাইফুল ইসলাম সানতু