ছেলেরা যুগ্মসচিব-বুয়েট শিক্ষক ও প্রবাসী, নিঃসঙ্গ বাসায় মরে পড়ে ছিলেন বৃদ্ধ মা
রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় এক বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে নিঃসঙ্গ অবস্থায় মারা গেছেন ৭২ বছরের বৃদ্ধা নূরজাহান বেগম। তাঁর তিন ছেলের মধ্যে একজন যুগ্মসচিব, একজন বুয়েটের শিক্ষক এবং আরেকজন কানাডাপ্রবাসী হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন কেউ খোঁজ নেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
১ জুন ২০২৬, রোববার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ মিরপুর-১১ এলাকার একটি বহুতল ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে নূরজাহান বেগমের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের ধারণা, অন্তত ৪ থেকে ৭ দিন আগে তিনি মারা গেছেন। মেয়ের বাসার একটি কক্ষে একা থাকতেন তিনি। ঘরের অপরিচ্ছন্ন অবস্থা ও পচা গন্ধ দেখে প্রতিবেশীরা সন্দেহ করে ৯৯৯-এ খবর দেন।
নূরজাহান বেগমের স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, যিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান। তাঁর বড় ছেলে সরকারের যুগ্মসচিব এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিদপ্তরের প্রধান। মেজো ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। ছোট ছেলে কানাডায় প্রবাসী। মেয়ের জামাতাও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। সবাই আলাদা থাকায় মা একা পড়ে ছিলেন।
মৃত্যুর খবর পেয়ে বুয়েটের শিক্ষক ছেলে ঘটনাস্থলে এসেছেন, তবে যুগ্মসচিব ছেলে এখনো আসেননি বলে জানা গেছে। পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় এক প্রতিবেশী বলেন, “বৃদ্ধা খুবই নিঃসঙ্গ ছিলেন। কেউ খোঁজ নিত না। এভাবে একা মারা যাওয়া খুবই মর্মান্তিক।” এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত সন্তানরা মায়ের প্রতি এমন অবহেলা কেন করলেন।
নূরজাহান বেগম মৃত্যু, মিরপুর বৃদ্ধা মা, যুগ্মসচিব ছেলে, বুয়েট শিক্ষক, নিঃসঙ্গ মৃত্যু, মিরপুর-১১ ঘটনা