‘ভারত-বাংলাদেশ এক হয়ে যাওয়া’ বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর ‘ভারত-বাংলাদেশ এক হয়ে যাওয়া’ সংক্রান্ত বক্তব্যের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, এ ধরনের মন্তব্য দুই দেশের স্বাধীন সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের আগে কলকাতায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারতের ১৪০ কোটি এবং বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি জনগণ একসঙ্গে কাজ করলে বিশ্বশক্তিতে পরিণত হবে। শুক্রবার (১২ জুন) বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ঢাকায় পৌঁছানোর পরও তিনি দুই দেশের মিলিত জনশক্তির কথা উল্লেখ করেন। এ বক্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ডা. শফিকুর রহমান শনিবার (১৩ জুন) এক বিবৃতিতে বলেন, “বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। ভারতও তাই। দুই দেশের সম্পর্ক হবে সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে। কোনো ধরনের একীভূতকরণ বা মিলিয়ে যাওয়ার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের উচিত এ বিষয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চাওয়া।” তিনি আরও বলেন, এমন মন্তব্য জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বেনাপোল হয়ে ঢাকায় আসার পর ‘একই আকাশ, একই বাতাস, একই যন্ত্রণা’ উল্লেখ করে মিলেমিশে কাজ করার আহ্বান জানান। তবে ‘এক হয়ে যাওয়া’ শব্দটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জামায়াত আমিরের দাবির প্রেক্ষিতে সরকারি প্রতিক্রিয়া এখনও আসেনি। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে নতুন হাইকমিশনারের আগমনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও সার্বভৌমত্ব সংক্রান্ত কোনো ইঙ্গিত গ্রহণযোগ্য নয়।
এ ঘটনা জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ে সতর্কতার সুর তুলেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে, পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে প্রতিবেশী সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই উভয় দেশের জন্য কল্যাণকর হবে।
জামায়াত আমির শফিকুর রহমান, দীনেশ ত্রিবেদী, ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক, ভারতীয় হাইকমিশনার, সার্বভৌমত্ব, রাজনীতি