বাটন ফোনের যুগে ফিরছে জেন জি: ডিজিটাল ডিটক্স ও মানসিক শান্তির খোঁজে
স্মার্টফোনের নিরন্তর নোটিফিকেশন ও ডুমস্ক্রলিংয়ের চাপ থেকে মুক্তি পেতে জেনারেশন জি (জেন জি) তরুণরা এখন বাটন ফোন বা ডাম্ব ফোনের দিকে ঝুঁকছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে শুরু হয়ে এই ট্রেন্ড বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায়ও ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশ্বব্যাপী ডাম্বফোন বিক্রি বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে, যেখানে জেন জি প্রধান চালিকাশক্তি। অনেক তরুণ প্রাইমারি স্মার্টফোনের পাশাপাশি সেকেন্ডারি হিসেবে বাটন ফোন ব্যবহার করছেন। এর পেছনে রয়েছে ডিজিটাল ক্লান্তি, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি, মনোযোগ বৃদ্ধি, নস্টালজিয়া এবং প্রাইভেসি সুরক্ষার আকাঙ্ক্ষা।
ঘটনার কালানুক্রমিক ধারাবাহিকতায় দেখা যায়, ২০২৩-২৪ সাল থেকে এই প্রবণতা শক্তিশালী হয়। করোনা মহামারির পর অতিরিক্ত অনলাইন সময়ের কারণে তরুণদের মধ্যে স্ক্রিন অ্যাডিকশন, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা বেড়ে যায়। ফলে ২০২৫-২৬ সালে ডাম্বফোন মার্কেটে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যায়। বাংলাদেশেও বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই ট্রেন্ড অনুসরণ করছেন। একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলেন, “সারাদিন স্ক্রলে ক্লান্ত হয়ে যাই। বাটন ফোন নিয়ে বের হলে মন শান্ত থাকে, বাস্তব জগতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ে।”
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, স্মার্টফোনের নীল আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করে, যা জেন জি-এর মধ্যে ঘুমের সমস্যা বাড়িয়েছে। বাটন ফোনে এসব সমস্যা নেই বললেই চলে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার FOMO (Fear of Missing Out) থেকে মুক্তি পেয়ে অনেকে পড়াশোনা ও সৃজনশীল কাজে বেশি মনোযোগ দিতে পারছেন। নস্টালজিয়ার দিক থেকেও Y2K যুগের ফ্লিপ ফোনকে অনেকে ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হিসেবে দেখছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা পুরোপুরি স্মার্টফোন বর্জনের পরিবর্তে সুষম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। জেন জি প্রযুক্তিকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছে না, বরং এর দাসত্ব থেকে মুক্তি চাইছে। এই ট্রেন্ড ভবিষ্যতে ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং নিয়ে আরও বড় আলোচনা তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জেন জি বাটন ফোন, ডাম্বফোন ট্রেন্ড, ডিজিটাল ডিটক্স জেন জি, বাটন ফোন মানসিক স্বাস্থ্য, স্মার্টফোন থেকে ফিরে যাওয়া