সিরাজগঞ্জে অতিরিক্ত পিপি হুমায়ুন কবির কর্নেলের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে
সিরাজগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেলের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। আদালতপাড়ায় এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
স্থানীয় আইনজীবী ও আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও তিনি বিভিন্ন মামলার আসামিপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন এবং নিজ কক্ষে বসে লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) আদালত চত্বরে তাকে কয়েকজন আসামির সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন আইনজীবী।
অভিযোগকারীরা বলেন, হুমায়ুন কবির কর্নেল আসামিপক্ষের হয়ে দেন-দরবার করছেন, যা তার সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ঘটনা সিরাজগঞ্জ জজ আদালতে উত্তেজনা তৈরি করেছে। একটি সূত্র জানায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিয়ারা ঘাট এলাকার একটি হত্যা মামলায় পুলিশ কনস্টেবল রুবেলের পক্ষ নিয়ে তিনি দরবার করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি আদালতে দাঁড়িয়েছিলাম, তবে কোনো পক্ষের হয়ে বক্তব্য দেইনি।” তবে নিজ অফিস কক্ষে আসামিপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।
প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তাকে আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে একটি মামলায় আসামি করা হয়েছিল। এর আগে ২০২১ সালে প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে গ্রেপ্তারও হন। তখন তার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ, জামিনের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ছিল। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, চৌহালী এলাকায় অনেকে তার কাছ থেকে প্রতারিত হয়েছেন।
বর্তমান অভিযোগগুলো নিয়ে আদালতপাড়া ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা চলছে। অনেকে এর সত্যতা যাচাই এবং সরকারি দায়িত্বে অনিয়মের তদন্ত দাবি করেছেন। এ ঘটনা আইনজীবী সমাজে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নকে সামনে এনেছে।
হুমায়ুন কবির কর্নেল, মামলা বাণিজ্য অভিযোগ, সিরাজগঞ্জ আদালত, অতিরিক্ত পিপি, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম