ঝলক২৪ ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫/০১/২০২৬ | আপডেট : ৫:২২
 |
| ছবি সংগৃহীত |
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড ১৪ জানুয়ারি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, তা হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এরফান সোলতানিকে ৮ জানুয়ারি কারাজ শহরের ফারদিস এলাকায় গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে ‘মোহারেবাহ’ (ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ) অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়। নরওয়েভিত্তিক হেনগাও অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, ১৩ জানুয়ারি পরিবারকে জানানো হয় যে ১৪ জানুয়ারি ফাঁসি কার্যকর হবে এবং শেষ দেখা করার জন্য মাত্র ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয়। কিন্তু ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো সরকারি ঘোষণা বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি যে এটি কার্যকর হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং ইরান হিউম্যান রাইটস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, এরফানের বিচারপ্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত এবং অস্বচ্ছ ছিল, যেখানে আইনজীবী নিয়োগের সুযোগও দেওয়া হয়নি। হেনগাও সংস্থা জানিয়েছে, ইন্টারনেট শাটডাউনের কারণে সাজা কার্যকর হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেনি তারা। জাতিসংঘও ইরানকে সকল মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৩ জানুয়ারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ‘অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়া হবে।> ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইরান সরকার বিক্ষোভকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করছে।
বিক্ষোভ শুরু হয়েছে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে, মূলত অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি ও দুরবস্থার প্রতিবাদের পরে এটি রাজনৈতিক রূপ নিয়ে শাসনব্যবস্থার অবসান দাবি করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, দমনমূলক অভিযানে নিহত হয়েছে অন্তত ২ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি, যার মধ্যে শিশুসহ নিরস্ত্র ব্যক্তিরা রয়েছে। হাজার হাজারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভকে সহিংস করে তোলা হয়েছে যাতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত পায়। এই ঘটনা ২০২২ সালের মাহসা আমিনি আন্দোলনের পর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ঘটছে। ইরান বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশ, গত বছর অন্তত ১ হাজার ৫০০টি কার্যকর হয়েছে।
এই অনিশ্চয়তা ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আরও অস্থিরতা তৈরি করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইরানের উপর চাপ প্রয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছে যাতে আরও মৃত্যুদণ্ড স্থগিত হয়।
এরফান সোলতানি, মৃত্যুদণ্ড, ইরান বিক্ষোভ, সরকারবিরোধী আন্দোলন, হেনগাও সংস্থা, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ডোনাল্ড ট্রাম্প, আলি খামেনেই, মানবাধিকার
সূত্র: ঝলক২৪ টিম
খবরের দায়ভার নয়; অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি সংশোধনে যোগাযোগ করুন